ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যানসহ পাঁচ ইউপি সদস্য।
অভিযোগকারীরা হলেন– প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শওকত সরদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (১, ২, ৩ ওয়ার্ড) লাকী বেগম ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (৩, ৪, ৫ ওয়ার্ড) আলেয়া বেগম।

অভিযোগে বলা হয়, গত দুই বছর আগে নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসাইনের মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ৪ নম্বর ইউপি সদস্য শওকত সরদার (প্যানেল চেয়ারম্যান)। ইউপির ৯ জন সদস্যের মধ্যে একজন একটি হত্যা মামলায় কারাগারে এবং আরও একজন আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যানসহ সাতজন ইউপি সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যানের সরলতার সুযোগ নিয়ে ইউপি সচিব মিজানুর রহমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নয়ছয় করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

প্যানেল চেয়ারম্যান শওকত হোসেন অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের আদায়কৃত কর, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ফি, ওয়ারিশ সনদ, গ্রাম আদালতের মামলার ফি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা ভাতা বাবদ প্রতিজনের কাছ থেকে এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করেছেন মিজানুর। এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গোপনে পাঁচটি টিআর-কাবিখার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সচিব মিজানুর।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (৩, ৪, ৫ ওয়ার্ড) আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, পরিষদের পাঠাগার সংস্কার বাবদ চার লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মিজানুর রহমান কয়েকটি পুরাতন আসবাব রং করে এবং পরিষদের ভবনের দেওয়াল চুন করে টাকা উত্তোলন করেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে গত দুই বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পরিষদে গণসভার আয়োজন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউপি সচিব মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে গত সোমবার লিখিত অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সালিশিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে ওই ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!