ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

কুষ্টিয়া জেলাতে বিএনপির ভরাডুবি: আত্মসমালোচনার সময়

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

কুষ্টিয়া জেলাতে বিএনপির ভরাডুবি: আত্মসমালোচনার সময়

রাজনীতিতে শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত কোনো অঞ্চলেই স্থায়ী আধিপত্য বলে কিছু নেই— এ কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল কুষ্টিয়ায় বিএনপির আজকের নির্বাচনী ফলাফল। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনগত শক্তি ও জনসমর্থনের জন্য পরিচিত এই জেলায় প্রত্যাশার তুলনায় বড় ধরনের ব্যর্থতা কেবল একটি নির্বাচনী পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি দলীয় কাঠামো, নেতৃত্বের ধরন এবং জনসম্পৃক্ততার গভীর সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো দলীয় কমিটি গঠন নিয়ে অসন্তোষ। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নতুন মুখ বা ভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমির ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণশক্তি তার তৃণমূল—সেখানে বঞ্চনার অনুভূতি জন্ম নিলে সংগঠনের স্বাভাবিক গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব নির্বাচনী মাঠে পড়াই স্বাভাবিক। এর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা নৈরাজ্যের অভিযোগ—সত্য হোক বা অতিরঞ্জিত—রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষয় করে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধ আচরণ প্রত্যাশা করে। যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন রাজনৈতিক সমর্থন দ্রুত সরে যেতে পারে।

দলীয় অন্তর্কোন্দলও এই ব্যর্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ঘাটতি, সমন্বয়ের অভাব এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সংগঠনকে ভেতর থেকেই দুর্বল করে দেয়। নির্বাচনের মতো সমন্বিত প্রচেষ্টার সময়ে এমন বিভাজন কেবল কৌশলগত দুর্বলতাই তৈরি করে না, কর্মীদের মনোবলও ক্ষুণ্ণ করে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া। একটি রাজনৈতিক দলের টিকে থাকা নির্ভর করে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য তার ওপর। যখন ভোটারদের মনে প্রশ্ন জন্মায়—দলটি কি সত্যিই তাদের প্রত্যাশা ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছে—তখন ঐতিহ্যগত শক্ত অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

কুষ্টিয়ার এই ফলাফল তাই কেবল একটি নির্বাচনী পরাজয় নয়; এটি আত্মসমালোচনা ও পুনর্গঠনের আহ্বান। দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করা, তৃণমূলকে মূল্যায়ন করা, নেতৃত্বে স্বচ্ছতা আনা এবং জনগণের আস্থা পুনর্নির্মাণ—এই চারটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। রাজনীতিতে জনআস্থা একবার হারালে তা পুনরুদ্ধার করা সময়সাপেক্ষ—কিন্তু অসম্ভব নয়, যদি শেখার মানসিকতা ও বাস্তবসম্মত সংস্কারের উদ্যোগ থাকে।

লেখক: খালিদ সাইফুল্লাহ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Link copied!