ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

প্রভিডেন্ট ফান্ডের শত কোটি টাকা বকেয়া, অনিশ্চয়তায় চা শ্রমিকরা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

প্রভিডেন্ট ফান্ডের শত কোটি টাকা বকেয়া, অনিশ্চয়তায় চা শ্রমিকরা

চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা ‘প্রভিডেন্ট ফান্ড’। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হচ্ছে না টাকা। এতে করে শত কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে চা শ্রমিকদের। এতে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চা বাগানের হাজারো শ্রমিক।

দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ কেটে এই তহবিলে জমা রাখার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে প্রায় ৫৮টি চা বাগান মালিক এই প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দেয়নি। ফলে অবসরের পর কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চা শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। অনেক শ্রমিক অবসরের কাছাকাছি চলে এসেছেন, কিন্তু সঞ্চিত অর্থ হাতে পাবেন কি-না সেই শঙ্কায় দিন কাটতে হচ্ছে।

চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, শ্রমিকদের টাকা মাসের শেষে ঠিকই কেটে নেওয়া হয় অথচ বাগান মালিক পক্ষ এই টাকা নিয়মিত ব্যাংকে জমা করেননি। এতে করে শ্রমিকের টাকা দিয়ে বাগান পক্ষ ব্যবসা করেন আবার শ্রমিকেরা সময়মতো টাকা পান না।

চা শ্রমিক ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক এর অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত চা শ্রমিকদের বেতনের ৭.৫ শতাংশ কর্তন করে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ আরও ৭.৫ শতাংশ মোট ১৫ শতাংশ অর্থ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রদেয় মোট ১৫ শতাংশ জমা টাকার ওপর আরও ১৫ শতাংশ অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে একত্রে জমা দিতে হয়।

শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবকে চেয়ারম্যান করে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই ভবিষ্য তহবিল পরিচালনা করেন। বোর্ডে চা বাগান মালিকপক্ষের ৩ জন, চা স্টাফ এসোসিয়েশন থেকে ১ জন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ২ জন প্রতিনিধি এবং চা শিল্প বর্হিভূত ২ জন স্বতন্ত্র বিশিষ্ট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শ্রম সচিবের হয়ে ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালন করেন।

নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড শ্রমিকদের পক্ষে অনাদায়ী বকেয়া আদায়ে বাগান মালিকদের সাথে দেন দরবার ও মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য মতে ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ৫৮টি চা বাগানের শ্রমিকদের পিএফ এর টাকা বকেয়া রয়েছে। 
এই বাগানগুলোতে ফান্ডের টাকার পরিমাণ শতকোটি টাকার ওপরে হবে বলে জানা যায়।

শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান স্টাফ এসোসিয়েশনের সূত্রে এই বকেয়ার পরিমাণ শত কোটি টাকার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান। চা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কিছু বাগানে আর্থিক সংকটের কারণে পিএফের টাকা সময়মতো জমা হয়নি। আবার  কোথাও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও তদারকির অভাবও দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, চা শ্রমিকদের আয় এমনিতেই কম। তার মধ্যেও সামান্য টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়, সেটিও পাওয়া যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তবে শ্রমিকদের জীবনে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। এ নিয়ে আমরা মালিকপক্ষ ও তহবিল নিয়ন্ত্রকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরি বলেন, নিয়ম হলো প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা প্রতি মাসে জমা করা। অথচ শ্রমিকের অংশের টাকা ঠিকই কেটে নেওয়া হয়। এই টাকা ও বাগান পক্ষের টাকা ফান্ডে জমা হওয়ার কথা থাকলেও ২-৩ মাসেও জমা হয় না। এই টাকা সময়মতো জমা হলে ইন্টারেস্টর টাকাও বৃদ্ধি হতো। তবে দুঃখের বিষয় সময়মতো শ্রমিকেরা টাকা পায় না আবার টাকা জমাও হয় না।

বকেয়া তালিকায় থাকা সাতগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাগানে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ থেকে চায়ের দাম কম। তবে শিগগির শ্রমিকদের পিএফ এর বকেয়া জমা দিতে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

এ বিষয়ে ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক মহব্বত হোসাইন বলেন, ৫ ও ৭ জুলাই ট্রাস্ট্রি বোর্ডেও ৪৪০তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনাদায়ী অর্থ আদায়ে তাগিত পত্র প্রেরণ ও বাগানের আর্থিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছিল। এর ফলে সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনাদায়ী ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু বাগান লোকসানের মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের স্বার্থও দেখা হচ্ছে। সব কিছু বিবেচনায় রেখে আমরা অনাদায়ী আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।

Link copied!