তীব্র গরমে শূন্যরেখায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ৯ জনের মানবেতর জীবন।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অব্যাহতভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যের সঙ্গে সীমান্তবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তারা কাউকেই আর নতুন করে বাংলাদেশে ঢোকাতে পারেনি। বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে শূন্যরেখায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিএসএফ ১৬ জনকে দেশের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে শূন্যরেখায় অবস্থানকারী পুশইনের শিকার ৯ জন বেশ অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) : পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ৩ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা সেটা ব্যর্থ করে দেন। রোববার রাত ২টার দিকে সদর ইউনিয়নের কালিরহাট গ্রাম সীমান্তে এ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ তাদের কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ভেতরে নিয়ে গেছেন বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের ৮৫৫ মেইন পিলারের লাগোয়া স্থান দিয়ে ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাওয়ারিকামারী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৩ ভারতীকে কাঁটাতারের ওপারে রেখে সার্চ লাইট বন্ধ করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এ সময় বিজিবির টহলদলের সদস্যরা টের পেয়ে বিএসএফকে সর্তকবার্তা পাঠালে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তিনজনকে নিয়ে তারা ভারতের অভ্যন্তরে চলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : দৌলতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা চার দিন অবস্থান করা সেই ১২ জনকে অবশেষে সোমবার ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবির সঙ্গে পতাকা বৈঠকের পর তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা। বিএসএফের পক্ষে রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের এপি সুনীল কুমার যাদব। বৈঠকে আলোচনার পর শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থানরত ১২ জনকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয় বিএসএফ। এর আগে শুক্রবার ভোরে চার নারী, চার পুরুষ ও চার শিশুকে চকবিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয় বিএসএফ। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে জানায়। পরে বিজিবি-জনতা মিলে ওই ১২ জনকে পুশব্যাক করে। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছিল।
জয়পুরহাট : বিজিবি সদস্য ও সীমান্তবাসীদের প্রতিরোধের মুখে অবশেষে পাঁচবিবির হাটখোলা সীমান্তের হঠাৎপাড়া দিয়ে পুশইন করা ভারতীয় বৃদ্ধকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ। রোববার রাতে তাকে বিএসএফ গাড়িতে করে ভারতের মথুরাপুর নিয়ে গেছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে। রোববার সকালে এক বৃদ্ধসহ ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গ্রামবাসী ও বিজিবির বাধায় তাৎক্ষণিকভাবে ৪ জন ফিরে গেলেও ওই বৃদ্ধ আটকা পড়ে। তাকে ভারতে পুশব্যাক করলে বিএসএফ বাধা দিয়ে শূন্যরেখার একটি ডোবার পাশে আটকে রাখে। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে সন্ধ্যার পর সার্চ লাইট বন্ধ করে ওই বৃদ্ধকে ভারতে ফিরিয়ে নিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রৌমারীর দুটি সীমান্তে পুশইন করা ৯ জন নোম্যান্স ল্যান্ডে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোববার ভোরে বিএসএফ দুটি দলে ৯ জন বাংলাদেশি সীমান্তে রেখে যায়। পুশইনের পর বিজিবি সদস্যরা তাদের নোম্যান্স ল্যান্ডে দেখতে পান। পরে বিজিবি ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থান নেন এবং নিরাপত্তা জোরদার করেন। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করায় এসব বাংলাদেশি চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার সংকটে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।
৩৫ বিজিবির অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, তারা এখন ভারতের ১৫০ গজের মধ্যে অবস্থান করছে। এ নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা সাফ জানিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না।