ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। পোস্টাল ভোটসহ সব কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে ভোট গণনা শেষে এ তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর আগে সকাল ৮টা থেকে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকেল ৪টায় শুরু হয় গণনা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটসহ সব কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। অর্থাৎ, ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ভূমিধস জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।
নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন ভোটারের এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৩০৮টি ভোট।
ভোটগ্রহণের দিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফয়সল আমীন। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না, যা উদ্বেগজনক। তিনি ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছিলেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪০৫ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এছাড়া ৪ বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয় এবং প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, `এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কমিশনকে উদ্বিগ্ন করেনি।` পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোটারদের পরিচয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এজেন্টদের বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে।