মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের নির্বাচিত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস’ (নাস)-এর পাইলট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সোমবার (১৫ এপ্রিল) এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় এই মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই মূল্যায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সরকার ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।
পাইলট পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত প্রণীত প্রশ্নপত্রের যথার্থতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। দেশের ৩০টি উপজেলা থেকে বাছাইকৃত ৩০টি প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এতে ষষ্ঠ, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে—যারা বর্তমানে যথাক্রমে সপ্তম, নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এবং এসএসসি/দাখিল পরীক্ষার্থী।
বাংলা, ইংরেজি ও গণিত—এই তিন বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে লটারি বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রতি শ্রেণিতে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হবে। বাংলা পরীক্ষা চলবে ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত, ইংরেজি ১১টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট এবং গণিত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার মাঝে ২০ মিনিট বিরতি থাকবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার আগের দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হবে।
পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্রগুলো সিলগালা করে নিরাপদে ‘লেইস’ প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিখনফল নির্ধারণ করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।