ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

১১তম গ্রেডসহ প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ দাবি

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

১১তম গ্রেডসহ প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ দাবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন এবং বদলি নীতিমালা সহজ করাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’। দাবি বাস্তবায়নে আগামী পহেলা অক্টোবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক আসমা খানমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহীনুর আল আমীন, অজিত পাল, আনিসুর রহমান, শাহীনুর আক্তার, মো. মনিরুজ্জামান মনির ও তপন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা দেশের বুনিয়াদি শিক্ষার ভিত্তি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

দেশে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন। অথচ তাদের পেশাগত উন্নয়ন, পদোন্নতি, বদলি ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা রয়েছে। প্রতি তিন বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি পে স্কেলে বাড়িভাড়া ও বৈশাখী ভাতা পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণকে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরে শিক্ষক নেতারা বলেন, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি পেশায় তুলনামূলকভাবে উচ্চ গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

তারা আরো বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নানা জটিলতায় আটকে আছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদ দ্রুত পূরণে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে স্কেল দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি চাকরির আট ও ১৪ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলি সম্পন্ন করার পর নতুন শিক্ষকদের যোগদান এবং পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালুর দাবি জানানো হয়।

পাঁচ বা তার কম পয়েন্টের বিদ্যালয় থেকে বদলির ক্ষেত্রেও নীতিমালা শিথিলের দাবি করেন শিক্ষক নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, জীবনমুখী, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত করা, শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক শিফটে এনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা।

শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে আগামী পহেলা অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

Link copied!