ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
amaderkhobor24.com
প্রয়াণের ৯ বছর

ঢালিউডের এক অলিখিত অধ্যায়ের নাম নায়করাজ রাজ্জাক

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

ঢালিউডের এক অলিখিত অধ্যায়ের নাম নায়করাজ রাজ্জাক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহা-তারকা নায়করাজ রাজ্জাককে হারানোর ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন এই কিংবদন্তী অভিনেতা। কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়, মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে।

পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে নতুন জীবনের প্রত্যাশায় সপরিবারে বাংলাদেশে চলে আসেন। শূন্য থেকে শুরু করা সেই রাজ্জাক নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের মাধ্যমে পরবর্তীতে অর্জন করে নেন ‘নায়করাজ’ উপাধি। বাংলাদেশে এসে ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রের পরিচালক আব্দুল জব্বার খানের সহযোগিতায় ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি।

এরপর ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ ছবিতে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়। একই বছর জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবিতে প্রধান চরিত্র লখিন্দরের ভূমিকা অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্তভাবে জানান দেন এই তারকা।

দেশ স্বাধীনের পর রাজ্জাক অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘মানুষের মন’ ব্যাপক ব্যবসাসফলতা পায়, যার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে শুরু হয় ‘রাজ্জাক যুগ’। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ও ‘অবুঝ মন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে দেশের চলচ্চিত্রের অনবদ্য আইকনে পরিণত করেন তিনি।

প্রয়াত এই নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে বেশ কিছু ধর্মীয় আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কুরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত ও বাদ আসর পরিবারের সবাই মিলে দোয়া করা হবে। এর বেশি কিছু করা হচ্ছে না।’

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে রাজ্জাক ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’ ও ‘ও আমার দেশের মাটি’সহ প্রায় ৫০০টি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন তিনি। তার মালিকানাধীন ‍‍`রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন‍‍` থেকে একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা নির্মিত হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে প্রধান অভিনেতার ভূমিকা পালন করা এই গুণী শিল্পী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‍‍`স্বাধীনতা পুরস্কারে‍‍` ভূষিত করে।

Link copied!