ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ১৫ তলা নতুন ভবন

শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ, বাড়ছে সেবার পরিধি

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ, বাড়ছে সেবার পরিধি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ৫শ’ শয্যার ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে যুক্ত করা হয়েছে আরো ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট নতুন একটি ভবন। নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ১০০০-এ উন্নীত হবে। ডাক্তারসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া চূড়ান্ত হলে দ্রুত নতুন ভবনে কার্যক্রম চালু হবে বলে হাসপাতালটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন

সারাদেশ থেকে প্রতিদিন ঘটনা-দুর্ঘটনায় আহতরা চিকিত্সার জন্য যান নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যান। চিকিত্সকদের মতে প্রতিদিন যত রোগী আসে তার মধ্যে প্রতি পাঁচ মিনিটে একজন স্ট্রোকের রোগী থাকে। সারাদেশের মানুষের কাছে মস্তিষ্কজনিত রোগের চিকিত্সায় আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালটি। পূর্ণাঙ্গ এক হাজার বেডের হাসপাতাল চালু হলে চিকিত্সা পেতে রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে। শয্যা পেতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষাও কমে যাবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নতুন ৫শ’ শয্যার ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট। পুরাতন ভবনটি ১০ তলা। নতুন ভবনটি আগের ভবনটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। উভয় ভবনে সহজে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন ভবনটি ভূগর্ভে তিন তলা এবং মাটির উপর ১২ তলা । ভবনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। নতুন ভবনটিতে মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের জন্য অপারেশনসহ সুচিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ৪টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে, এর মধ্যে ২টি জার্মানির যন্ত্রপাতিসহ সেই দেশের ইঞ্জিনিয়াররা স্থাপন করেছেন। অপর ২টি দেশীয় ব্যবস্থাপনায়  স্থাপন করা হয়।

নতুন এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনের প্রতিটির মূল্য কমপক্ষে ২৮ কোটি টাকা। ২/১টি বড় হাসপাতাল ছাড়া এই ধরনের যন্ত্রপাতি আর কোথাও নেই বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। অত্যাধুনিক এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনে পরীক্ষায় বড়দের সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। আর শিশুদের কয়েক সেকেন্ডে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে যায়। অপারেশন থিয়েটারে দেয়ালের সঙ্গে এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে যে অপারেশন থিয়েটারে হাঁচি কাশি দিলে কিংবা অন্য কোন কারণে জীবাণু ঢুকলেও রোগী ও ডাক্তাররা শতভাগ নিরাপদে থাকবেন। ঐ জীবাণুকে মেশিন মুহূর্তে টেনে নিয়ে ধ্বংস করে  দেবে। এছাড়া নতুন ভবনে থাকছে ১শ’ বেডের পোস্ট অপারেটিভ আইসিইউ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদরুল আলম বলেন, বিনামূল্যে কিংবা সামান্য মূল্যে অত্যাধুনিক এমন চিকিত্সা পাওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বে খুব কমই আছে। হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে, চাহিদার তুলনায় জনবল কম। মানুষ এখানে ফ্রি চিকিত্সা পাচ্ছেন। তবে হাসপাতাল কিংবা বেড বাড়িয়ে কোন লাভ হবে না, যদি ঢাকার বাইরে নিউরোলজিক্যাল চিকিত্সা নিশ্চিত না করা হয়। তিনি বলেন, ৫শ’ শয্যার ভবনটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। ডাক্তারসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগ হলেই এটি চালু করা সম্ভব হবে।

গত বুধবার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ও বহির্বিভাগে আগত রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই হাসপাতালে এসে চিকিত্সা নিয়ে তারা এখন ভাল আছেন। চিকিত্সাধীন রোগীদের অভিভাবকদের কেউ কেউ বলেন, ‘তাদের (রোগী) সুস্থ জীবনে ফিরে পাবো আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। অপারেশনের পর সাতদিনের মধ্যে অনেকের সুস্থ হওয়া দেখে আমরা খুশি।’ আগত রোগীদের অধিকাংশই চিকিত্সা সেবা নিয়ে একই ধরণের মন্তব্য করলেও তাদের প্রায় সকলেরই অভিযোগ এখানে শয্যা পেতে সময় লাগে।

প্রসঙ্গত, নব্বই দশকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেশের স্বনামধন্য নিউরোলজিষ্ট অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ ও ডা. বদরুল আলমের নেতৃত্বে প্রথম নিউরোলজি ইউনিট চালু করা হয়। ১৯৯৯ সালে মাত্র ২২-টি শয্যা এই ইউনিটের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে  ২০১২ সালে  তত্কালীন সরকার ৫শ’ শয্যার পৃথক নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল চালু করে।

Link copied!