রাজধানী তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য শহরে গত রাতে ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তেল আবিব দাবি করেছে, তাদের হামলাগুলো সামরিক সদরদপ্তর ও সরকারি ভবনের ওপর চালানো হচ্ছে।
তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, বাস্তবতা হলো আবাসিক এলাকাগুলোও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কারাজ, সিরাজ, কোম, আবাদান ও তাবরিজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের নিকটবর্তী বিদ্যুৎ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এর ফলে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে; যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন স্বাভাবিক।
তাবরিজে একটি পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। আকাশ অভিযানে ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রেখেছে। এ পর্যন্ত ছয়শ’র বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেই সঙ্গে হাসপাতাল ও রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানে কয়েক ডজন অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে তারা। এর মধ্যে দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানাও আছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, খন্দাবে অবস্থিত ইরানের ভারী পানি উৎপাদন প্ল্যান্টটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার ইসরায়েলি হামলার পর সেটি অকেজো হয়ে গেছে।
ভারী পানি উৎপাদন কেন্দ্রে হামলার খবর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের দাবি, ওই স্থাপনাটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র।