ঢাকা বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

তামিলনাড়ুতে বিজয় থালাপাতির নতুন ইনিংস শুরু ৭ মে

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

তামিলনাড়ুতে বিজয় থালাপাতির নতুন ইনিংস শুরু ৭ মে

তামিলনাড়ুর দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় পরিবর্তনের সূচনা করে আগামী ৭ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপাতি বিজয়। তাঁর নতুন দল ‍‍`তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম‍‍` (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

একদিন আগেই, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে নতুন যুগের সূচনা করেন সুপারস্টার বিজয়। তাঁর দল টিভিকে ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জয় করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে তারা মাত্র ১০টি আসন দূরে রয়েছে, তবে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গড়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন বিজয়। ৭ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

এই নির্বাচন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের জন্য এক চরম বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। তিনি নিজে কোলাথুর আসনে টিভিকে’র প্রার্থীর কাছে ৮,৭৯৫ ভোটে হেরেছেন। স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে মাত্র ৫৯ আসনে জয় পেয়েছে, যা দলটির জন্য এক বড় ধাক্কা। রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই স্ট্যালিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত তাঁকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১০টি আসনের লক্ষ্যে বিজয় ইতিমধ্যেই ছোট দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছেন। কংগ্রেস (যাদের হাতে ৫টি আসন রয়েছে), পিএমকে, বামপন্থী দল (সিপিআইএম) এবং ভিসিকে’র মতো দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে টিভিকে।

কংগ্রেস নেতা গিরিশ চোদাঙ্কর জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর মানুষ বিশেষ করে যুবক ও নারীরা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং জোটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচনী সাফল্যের পর বিজয় থালাপাতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে রাজ্যের মানুষের সেবায় তাঁর সাফল্য কামনা করেন। জবাবে বিজয় কেন্দ্রের সহযোগিতার আশা ব্যক্ত করে বলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। একইভাবে রাহুল গান্ধীর শুভেচ্ছার জবাবেও তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ু ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে’র বৃত্তের বাইরে কোনো সরকারকে দেখতে যাচ্ছে। বিজয়ের এই উত্থান এন টি রামা রাও, এম জি রামচন্দ্রন এবং জয়ললিতার মতো কিংবদন্তি অভিনেতা-রাজনীতিবিদদের সারিতে তাঁকে জায়গা করে দিল। বিজয় প্রমাণ করেছেন, রুপালি পর্দার জনপ্রিয়তা সঠিক কৌশলের মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

বর্তমানে টিভিকে প্রধান বিজয় রাজ্যপালের সাথে দেখা করার সময় চেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে দ্রুত সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয় থালাপতির নতুন প্রশাসনিক ইনিংস দেখার জন্য।

Link copied!