ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কোভিড পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১১:৩১ এএম

বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কোভিড পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পৃথিবীকে আবার সেই পর্যায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রোসপেক্ট’ নামের একটি প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের হিসেব বলেছিল যে চলতি বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

“কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বহু দেশকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সেসব দেশে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি শুরু হয়েছে। ফলে বাৎসরিক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকও তার পূর্ববর্তী ধারণা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন বিশ্বব্যাংকের আনুমানিক ধারণা, যদি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শেষ হয়— তাহলেও বছরশেষে মোট বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পৌঁছাবে ২ দশমিক ৪ শতাংশে।” যদি এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয় তাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। নিকট অতীতে করোনা মহামারির সময় এমন অবস্থা দেখা গিয়েছিল।”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এদিকে মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরুর পরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবরোধ আরও দৃঢ় করতে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইনও পেতে রাখা হয়।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় এই জলপথ দিয়ে। এছাড়া সার ও রাসায়নিক পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এ জলপথের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুকে ইরান অবরোধ জারির পর থেকে মারত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে গড়ে ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫ থেকে ৭টিতে। প্রণালীর বাইরে আটকে আছে আছে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ।

জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি পণ্যের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় মূল্য ছিল ৯৪ ডলার। এই দাম গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেমে মে পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্যের তুলনায় শতকরা ৩৬ ভাগ বেশি।

এছাড়া নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারের আন্তর্জাতিক বাজারেও। হরমুজে অবরোধ এবং তার জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে পড়ায় বাড়ছে সারের দাম। এর ফলে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দামে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

“যদি জ্বালানি পণ্য ও সারের বাজারে অস্থিরতা থাকে, তাহলে বছরশেষে প্রবৃদ্ধি কমবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে এমন অবস্থা দেখা গিয়েছিল”, বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমি প্রসপেক্ট’ প্রতিবেদনে।

সূত্র : আলজাজিরা

Link copied!