ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল কিনছে ভারত

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল কিনছে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল সিস্টেম কিনতে চুক্তি সই করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতে মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার এ চুক্তির কথা নিশ্চিত করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

চুক্তির আর্থিক মূল্যের কথা মার্কিন দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই সমরাস্ত্র কিনছে নয়া দিল্লি।

কী আছে এই চুক্তিতে?

হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অনুরোধের পর গত বছরের নভেম্বরেই এই অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল সিস্টেম বিক্রির প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

চুক্তির আওতায় ভারত ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন মিসাইল এবং ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (এলডব্লিউসিএলইউ) পেতে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং কারিগরি সহায়তাও থাকছে এই প্যাকেজে।

মার্কিন সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি মাঝারি পাল্লার এই গাইডেড মিসাইল মূলত সাঁজোয়া যান ও সুরক্ষিত ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোর ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ বর্তমানে এই মিসাইল ব্যবহার করছে।

উত্তেজনার প্রভাব পড়েনি সামরিক সম্পর্কে

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা এবং ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দুদেশের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে।

তবে রয়টার্স বলছে, এসব ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেশ দুটির সামরিক সম্পর্কে পড়েনি।

গত বছরের অক্টোবরেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ১০ বছর মেয়াদী একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি সই করেছিল।

ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই জ্যাভলিন চুক্তিকে দুদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটি ‘বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, "দুদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের একসঙ্গে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে এই জ্যাভলিন চুক্তি। ভবিষ্যতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা এখানে বিশাল সম্ভাবনা দেখছি, যা উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করবে।"

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে ভারত বর্তমানে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। আর অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে ইউক্রেইনের পরই বিশ্বে তাদের অবস্থান।

মার্কিন ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সির (ডিএসসিএ) মতে, এই চুক্তি ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে নয়াদিল্লির তরফ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Link copied!