ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন মোজতবা খামেনি।

আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপরেই ইরানে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন।

অপরদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগের কথা বলেছেন।

গত ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসরায়েলে। তবে কোনো দল বা জোট এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখনো সরকার গঠিত হয়নি।

ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে শনিবার মোজতবা খামেনি বলেছেন, ‘যেকোনো স্তরের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে হবে। আর এই জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা মানা হবে না।’

মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে সামরিক কমান্ডারদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেন তিনি। এ তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।

বৈঠকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সম্পদের ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন করে যুদ্ধ যেন আবার শুরু না হয়, সে জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। এছাড়াও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।’

এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। তার ভাষায়, যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

Link copied!