ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২
amaderkhobor24.com

শ্রীলঙ্কায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংসদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

শ্রীলঙ্কায় গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংসদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় এক সংসদ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির একটি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই সাজা ঘোষণা করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তাম্বুয়া শহরে ৫৭ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি আটকে দেয় বিক্ষোভরত জনতা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। পরে জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হন তিনি।

আথুকোরালা একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও জনতা তাকে ঘিরে ফেলে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। তার দেহরক্ষীকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

২০২২ সালের মে মাসে দেশজুড়ে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে দেশটি তখন প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয়ও বহন করতে পারছিল না।


গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং আথুকোরালার মামলায় অভিযুক্ত আরও ২৩ জনকে খালাস দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যাবে।

১৯৭৬ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে গুরুতর অপরাধে আদালত নিয়মিতভাবে দণ্ডিতদের ফাঁসির আদেশ দিয়ে থাকে।

২০২২ সালের বিক্ষোভের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সমর্থকরা কলম্বোয় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করে। এই ঘটনার জেরে দেশটির সরকারি দলের অন্তত ৭৫ আইনপ্রণেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

পরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা ও তার ভাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটির সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে রাজাপাকসের উত্তরসূরি রনিল বিক্রমাসিংহে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিক্রমাসিংহে বামপন্থী অনুরা কুমারা দিশানায়েকের কাছে পরাজিত হন। দিশানায়েকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যয় কমানোর নীতি বজায় রেখে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলেছেন।

Link copied!