ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

পকেট খালি? মেনে চলুন টাকা সঞ্চয়ের এই টিপসগুলো

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

পকেট খালি? মেনে চলুন টাকা সঞ্চয়ের এই টিপসগুলো

মাসের শুরুতে হাতে টাকা থাকলেও অনেকেরই কয়েকদিন পর হাত শূন্য হয়ে যায়। বিশেষ করে মাসের শেষে যেন আরও বেশি হিমশিম খেতে হয়। আয় থাকলেও খরচের চাপ, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা আর পরিকল্পনার অভাবে সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই ধীরে ধীরে আপনার অর্থ সঞ্চয় করতে পারে। বড় লক্ষ্য নয়, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অভ্যাসই পারে সঞ্চয়কে একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করতে। নিচে তুলে ধরা হলো টাকা সঞ্চয়ের ছয়টি সহজ উপায়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এই কৌশল্গুলো উঠে এসেছে। এগুলো হলো:

১. সঞ্চয়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন-

সঞ্চয় শুরু করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা। লক্ষ্য যত পরিষ্কার হবে, সঞ্চয় তত সহজ হবে। ধরুন, আপনি এক হাজার ডলার (প্রায়) সঞ্চয় করতে চান। তাহলে এটিকে ছোট ভাগে ভাগ করুন প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা দিলে লক্ষ্যটি অনেক সহজ হয়ে যায়। বড় অঙ্ককে ছোট ধাপে ভাগ করলে চাপ কমে যায় এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

২. বিল কমানো ও অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাদ দিন-

মাসিক খরচের বড় একটি অংশ আসে ফোন বিল, ইন্টারনেট, বীমা বা বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন থেকে। অনেক সময় আমরা না বুঝেই একাধিক সেবা চালিয়ে যাই। নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখে কোন কোন সাবস্ক্রিপশন দরকার নেই তা চিহ্নিত করুন। যেমন ভিডিও স্ট্রিমিং, খাবার ডেলিভারি মেম্বারশিপ, ফিটনেস সাবস্ক্রিপশন বা ম্যাগাজিন। প্রয়োজনীয় বিলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রতিবছর একবার করে দরদাম বা প্ল্যান পরিবর্তনের চেষ্টা করা যেতে পারে।

৩. দৈনন্দিন খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন-

খরচ দুই ধরনের নির্দিষ্ট এবং পরিবর্তনশীল। খাবার, যাতায়াত, পোশাক বা বাইরে খাওয়া-দাওয়া পরিবর্তনশীল খরচের মধ্যে পড়ে। কিছু সহজ পরিবর্তন বড় সঞ্চয় এনে দিতে পারে যেমন বাসা থেকে খাবার নিয়ে যাওয়া, বাইরে খাওয়ার বদলে ঘরে খাওয়ার আয়োজন করা, বা সাশ্রয়ী দোকান থেকে কেনাকাটা করা। এছাড়া মাসে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিলে অর্থ সঞ্চয় সহজ হয়।  

৪. উচ্চ মুনাফার সঞ্চয় হিসাব ব্যবহার করুন-

সঞ্চয় রাখার জন্য এমন ব্যাংক হিসাব বেছে নিন যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি এবং টাকা সহজে পাওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সুদ আপনার সঞ্চয়কে বাড়াতে সাহায্য করে। অনেক অনলাইন ব্যাংক তুলনামূলক বেশি সুদের সুবিধা দিয়ে থাকে এবং সাধারণত কোনো অতিরিক্ত ফি থাকে না।

৫. স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় করুন-

সঞ্চয়কে অভ্যাসে পরিণত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। বেতনের হিসাব থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সরাসরি সঞ্চয় হিসাবে চলে গেলে আলাদা করে মনে রাখার প্রয়োজন হয় না। এতে নিয়মিত সঞ্চয় নিশ্চিত হয় এবং খরচের সুযোগও কমে যায়।

৬. অতিরিক্ত আয় সঞ্চয়ে রাখুন-

বোনাস, উপহার, কর ফেরত বা অতিরিক্ত আয় হলে তার একটি অংশ অবশ্যই সঞ্চয়ে রাখুন। এই ধরনের এককালীন আয় সঞ্চয়কে দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে এবং আর্থিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করে।

জীবনে হঠাৎ খরচ বা জরুরি পরিস্থিতি আসতেই পারে। তখন সঞ্চয় থাকলে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয় না। বিশেষজ্ঞরা শুরুতে অন্তত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জরুরি সঞ্চয় রাখার পরামর্শ দেন। এরপর ধীরে ধীরে কয়েক মাসের খরচের সমপরিমাণ সঞ্চয় গড়ে তোলাই ভালো।

সঞ্চয় একদিনে হয় না। ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত খরচ এবং নিয়মিত পরিকল্পনাই ধীরে ধীরে আর্থিক স্থিতি তৈরি করে। বড় লক্ষ্য নয়, বরং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই আপনাকে নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

 

 

Link copied!