ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

ইরানের সবশেষ মিসাইল হামলায় কাঁপছে গোটা ইসরাইল

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

ইরানের সবশেষ মিসাইল হামলায় কাঁপছে গোটা ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের অপারেশন ট্রু প্রমিসের চতুর্থ পর্ব এখন এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ও নেভাল ফোর্সের যৌথ অভিযানে অপারেশনের ৮৬তম ঢেউয়ে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে গোটা ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো। এই বহুমুখী হামলায় শুধু জানমালের ক্ষতিই নয়, দখলদার ইসরাইলের শিল্পাঞ্চলে বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার এক ভয়াবহ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

 

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দক্ষিণ ইসরাইলের বিরশেবা শহরের ‘নিওত হোভাব’ শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলটি শহর থেকে মাত্র চার মাইল দূরে অবস্থিত এবং এখানে প্রচুর বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুত রয়েছে। আগুনের ফলে বিষাক্ত রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ বিরশেবার বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, এই শিল্পাঞ্চল এখন এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।


আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ধাপে ভিক্টোরিয়া, আরিফজান এবং আল-খারজ-এ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং অস্ত্রাগারগুলোকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরাদ, নেগেভ, তেল আবিব এবং এরবিলের মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর গোপন আস্তানাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং আল-ধাফরা ঘাঁটিও ইরানের এই আগুনের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

শনিবারের এই আক্রমণে ইরানের সাথে যোগ দিয়েছে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহ। লেবানন থেকে রকেট এবং ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগপৎ হামলায় ইসরাইলের ১০০টিরও বেশি শহরে একসাথে যুদ্ধের সাইরেন বেজে ওঠে। হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ এই ধ্বংসযজ্ঞের কথা স্বীকার করলেও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে।


ইরানের এই ‘ট্রু প্রমিস-ফোর’ অভিযান প্রমাণ করছে, তারা এখন শুধু আত্মরক্ষা নয়, বরং শত্রুর গভীরে ঢুকে তাদের স্নায়ুকেন্দ্রগুলো অচল করে দেয়ার কৌশল নিয়েছে। একদিকে রাসায়নিক বিপর্যয়ের আতঙ্ক, অন্যদিকে একের পর এক মার্কিন ঘাঁটির পতন, সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন শুধুই বারুদের গন্ধ। তেহরানের এই ‘অগ্নিবৃষ্টি’র সামনে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ কতটা কার্যকর থাকছে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-বিবিসি-মিডল ইস্ট আই

Link copied!