ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ১১:১০ এএম

৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়সেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা

দেশজুড়ে হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত সুপারিশের বাইরে গিয়ে ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে জুনের শুরুতে এক মাসব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে দেখা গেছে, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে। ঢাকাসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে প্রথম ডোজ দেওয়ার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র বিশেষ এই কর্মসূচির জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ বলেন, “দেশে হাম সংক্রমণ বাড়ায় বিশেষ পরিস্থিতিতে ছয় মাস বয়সী শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আগের মতোই চলবে।” 

তিনি জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাসের আগে হাম টিকা দেওয়া হবে না। এই বিশেষ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

বর্তমান সারা বিশ্বে ডব্লিউএইচওর সুপারিশে শিশুদের ৯ মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। নিয়মিত কর্মসূচিতে বয়সসীমা অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে হালিমুর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর নির্দিষ্ট সুপারিশ নেই এবং বিষয়টি এখনও গবেষণাধীন। 

৯ মাসের আগে টিকা কতটা কার্যকর? 

বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও ইমিউনোলজিস্ট ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ৯ মাস বয়সে টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কোনো টিকাই শতভাগ কার্যকর নয়।”  

জরুরি পরিস্থিতি বা প্রাদুর্ভাবের সময় ৯ মাসের আগেও টিকা দেওয়া যেতে পারে, তবে এতে কার্যকারিতা কমে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৬ মাসে টিকা দিলে এর কার্যকারিতা ৫০ শতাংশের কম থাকে। এ কারণেই নিয়মিত সূচি ৯ মাস থেকে শুরু হয়,” বলেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, “সংকট পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আগাম টিকা দেওয়া যায় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে।” 

চ্যালেঞ্জের মাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ শিশু জন্ম নেয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার শিশু পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছে না। 

তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা উচিত। 

তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকা সহায়তা আসে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) থেকে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ গাভির কাছে টিকা চেয়েছিল, ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি শিশুর জন্য টিকার চালান এলেও বিভিন্ন কারণে তা ব্যবহার করা হয়নি। 

এদিকে সাম্প্রতিক সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে টিকা সংগ্রহে জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

একইসঙ্গে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত হাসপাতাল সুবিধা চালু, আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর বাড়ানো এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সহায়তা জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বাড়ছে হাম সংক্রমণ। 

ইপিআই কর্মকর্তারা জানান, এই প্রাদুর্ভাব আর নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। 

ইপিআইয়ের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, “এবার আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক তথ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।” 

Link copied!