ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

৫৬ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ২১ উপজেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

৫৬ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ২১ উপজেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জেলায় হাম শনাক্ত হয়েছে। সরকারি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে সংক্রামক রোগটির সারা দেশে ব্যাপক আকারে বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।তারা আরও জানিয়েছেন, আক্রান্ত জেলার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ডব্লিউএইচও ২৮ মার্চ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর পরে নতুন আরও জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জনসংখ্যার অনুপাতে সন্দেহভাজন রোগীর হিসেবে কক্সবাজারে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও বরিশাল সিটি করপোরেশন হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক হালিমুর রশীদ জানান, বুধবার পর্যন্ত ২ হাজার ৩৭৩টি সন্দেহভাজন নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪৩টি বা প্রায় ৩১ শতাংশ হাম শনাক্ত হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল (২ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭০৯ রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে—সন্দেহ করা হচ্ছে যারা হামের আক্রান্ত হতে পারেন। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় এসেছে ৬৮৫ রোগীর তথ্য এবং সব মিলিয়ে ৫৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ পর্যন্ত মোট ২৭ জনের মৃত্যুর কারণ হাম হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে চার শিশু। এর মধ্যে হামের কারণে ১৩টি মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।তবে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মোকাবিলায় রোববার থেকে বেশি আক্রান্ত এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

গত দুই দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ও সিভিল সার্জনদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইপিআইয়ের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেশি আক্রান্ত এলাকায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালানো হবে। প্রয়োজন হলে এই সময় বাড়ানো হতে পারে। এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২১টি উপজেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে কারা এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক দলের সুপারিশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল বলেছেন, হঠাৎ করেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং শুরুতে তেমন প্রস্তুতি ছিল না।‘তবে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা হাম প্রতিরোধে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পেরেছি,’ রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামজনিত নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপিএপি ব্যবহারে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো আইসিডিডিআর,বি (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ‘বাবল সিপিএপি’ এর ব্যবহার সারা দেশে সম্প্রসারিত করা।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আরও একজন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা জাহান জানান, এ নিয়ে মোট মৃত্যু বেড়ে ২৭ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গতকাল ওই হাসপাতালে ৮১ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একজন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো। হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস জানিয়েছেন, ছয় মাস বয়সী ওই শিশুকে (আবদুর রহমান) চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। গতকাল সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কাউদিয়া গ্রামের সাত মাস বয়সী রহিমা আক্তার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, এটি মাদারীপুরে হামে প্রথম মৃত্যু।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, সদর উপজেলার হাতিলা গ্রামের আট মাস বয়সী সাইফাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয় শিশু এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন ও কক্সবাজারে একজন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

Link copied!