সরকার ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, এ উদ্দেশে খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যারা প্রকৃত ভূমিহীন, তারা আবেদন করলে খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্তদবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে তাদের খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিন সকালে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
তবে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ঢাকা মহানগরের অকৃষি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে খাসজমি কত, কী কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে, বেদখল আছে কিনা, খাসজমি বরাদ্দ দিয়ে কোনও ভূমিহীনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে কিনা জানতে চান সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর। তিনি মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, দখল হওয়া খাস জমি উদ্ধার করে সরকারের রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে কিনা, থাকলে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন হবে।
জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে মোট খাস জমির পরিমাণ ৯২৯ দশমিক ৯১৪০ একর। এসব জমির মধ্যে নদী শ্রেণিভুক্ত ভূমি নদী হিসেবে, খাল শ্রেণিভুক্ত খাল হিসেবে, রাস্তা/হাট শ্রেণিভুক্ত ভূমি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া নালা, পুকুর ইত্যাদি শ্রেণিভূমি বর্তমানে সিটি রেকর্ড অনুযায়ী খাস হওয়ায় এবং নিষ্কণ্টক না হওয়ায় ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে।
মন্ত্রী সংসদে জানান, প্রকৃত খাসজমি সরকারের দখলে ও নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু সম্পত্তি সিটি জরিপে ভুলবশত খাস খতিয়ানে রেকর্ড হওয়ায় সেসব ভূমিতে বিভিন্ন ধরনের দেওয়ানি মামলা চলছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা মহনগরের সব খাসজমি অকৃষি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। সেগুলো বরাদ্দ দিয়ে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই। পুনরায় উদ্ধার হওয়া সরকারি খাসজমি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হবে।