বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন মূল্য আগামীকাল রবিবার থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, যা ১৫ টাকা বৃদ্ধি।
কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে—এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৮ টাকা। অকটেনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; লিটারপ্রতি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাব এ সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিবহন খরচ বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া কৃষিখাতে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, ফলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও এ কারণে আরো বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এমন চাপ আরো বাড়তে পারে।