ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com
ঈদযাত্রীদের মাঝে হাহাকার

৩-৪ মিনিটেই শেষ ট্রেনের সব টিকিট

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

৩-৪ মিনিটেই শেষ ট্রেনের সব টিকিট

রেলপথে ঈদযাত্রায় হাহাকার ট্রেনের টিকিট নিয়ে। বুধবার অনলাইনে প্রথম দিনের টিকিট ছাড়ার মাত্র ৩/৪ মিনিটেই ৯৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বাকি ৫ শতাংশ টিকিট, বিশেষ করে বিভিন্ন ট্রেনের শোভন সিট কিছুটা রয়ে যায়। তাও ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চল এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলা ট্রেনের টিকিট ছাড়া হয়। এ দিন ১১৪টি আন্তঃনগর ট্রেনের ৩১ হাজার ২৪০টি টিকিট বিক্রি হয়। রেলওয়ে অপারেশন দপ্তর ও সহজডটকম সূত্র বলছে, ৩১ হাজার ২৪০টি টিকিট বিক্রির সময় সহজডটকমের সার্ভারে কয়েক মিনিটে প্রায় ৮০ লাখ ‘হিট’ বা টিকিট কাটার প্রচেষ্টা হয়েছে। এ দিন ১৩ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ৫ দিন ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

বুধবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ২৭টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে কয়েকটি কাউন্টার খোলা। অধিকাংশই বন্ধ। কোনো কাউন্টারের সামনেই ভিড় নেই। ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়। এর আগে কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনসহ দেশের প্রধান প্রধান স্টেশনে ট্রেনের ‘অগ্রিম টিকিট’ কাটতে প্রায় দুই দিন আগে থেকেই কাউন্টারের সামনে অবস্থান করতেন সাধারণ যাত্রীরা। ২০-২১ হাজার টিকিটের বিপরীতে লক্ষাধিক মানুষ কমলাপুর স্টেশন কাউন্টারের সামনে অবস্থান নিতেন। এখন কাউন্টারে ভিড় নেই। তবে কিছু সাধারণ যাত্রীকে কাউন্টারের সামনে এবং স্টেশন মাস্টার ও ম্যানেজারের কক্ষে ঘুরতে দেখা গেছে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে এসেছিলেন বিল্লাল নামের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জানালেন, অনলাইনে শত চেষ্টা করেও টিকিট কাটতে পারেননি। স্টেশনে এসেছেন, কাউন্টার কিংবা কারও কাছ থেকে টিকিট পাবেন-এমন ভরসায়। এদিকে নির্ধারিত টিকিট থাকায় অনলাইনে টিকিট না পেয়ে সাধারণ যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টিকিট না পাওয়া ব্যক্তিরা হতাশা প্রকাশ করেন।

সহজডটকম সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ৩১ হাজার ২৪০টি টিকিট অনলাইনে ছাড়া হয়। বুধবার সকাল ৮টা এবং দুপুর ২টায় টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার কবির উদ্দিন মোল্লা বলেন, শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে যারা টিকিট কাটছেন, অধিকাংশই ৪টি করে টিকিট কেটে নিচ্ছেন। ফলে মোট টিকিট কেটে নিয়েছেন ৭ হাজার ৮১০ জন যাত্রী। এর বিপরীতে লাখ লাখ মানুষ অনলাইনে হিট করছেন। অনেকে কাউন্টার এবং আমাদের কাছে এসে টিকিট চাচ্ছেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। টিকিটের জন্য হাহাকার করা যাত্রীদের বলে দিচ্ছি, শুধু যাত্রার দিন ২৫ শতাংশ টিকিট বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন চেয়ার ও সিটের বগিতে প্রদান করা হবে। তবে স্ট্যান্ডিং এই টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করা যাবে না।

বুধবার যারা টিকিট কাটতে পেরেছেন, তারা ২৩ মে যাত্রা করবেন। আজ যারা কাটবেন, তারা যাত্রা করবেন ২৪ মে। একইভাবে ১৫, ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট বিক্রি হবে। ২৩ মে ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে যাবে ২০টি। এসব ট্রেনের জন্য নির্ধারিত আসন রয়েছে ১৫ হাজার ২৬৬টি। বাকি আসন পূর্বাঞ্চলের। এবারও ঈদে অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারছেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, রেলে টিকিটের চাহিদা অনেক। সে তুলনায় আমরা খুবই কম টিকিট দিতে পারছি। তবে আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। প্রতিবছরই টিকিটের সংখ্যা বাড়ছে। ট্রেনের সংখ্যা ২/৩ গুণ বেশি হলে যাত্রীদের প্রত্যাশার কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হতো। বর্তমান সরকার রেলের ইঞ্জিন ও কোচ ক্রয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রেলওয়ে পরিবহণ দপ্তর সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষ্যে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। কুরবানির পশু পরিবহণের জন্য থাকছে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন। এই ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

Link copied!