প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দিনের একদম শেষ মুহুর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেন মুমিনুল হক। ৬০ বলে ৩০ রান করে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। তার বিদায়ের পরপরই আম্পায়াররা দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দিন শেষ করা বাংলাদেশের লিড এখন ১৫৬ রান। আগামীকাল তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা এখন টিকে আছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর। ৩২ বলে এক চারে ১৩ রানে আছেন অধিনায়ক।
শান্ত-মুমিনুলে দেড়শ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের লিড। ২৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১০৫। স্বাগতিকদের লিড এখন ১৫১। ২২ বলে ৯ রানে খেলছেন শান্ত। ৪৮ বলে মুমিনুলের রান ২৯।পাকিস্তানের বোলারদের কোণঠাসা করে মাত্র ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু মাইলফলক স্পর্শ করার পরেই মনোযোগ হারান এই ওপেনার। আব্বাসের বলে আব্দুল্লাহ ফজলের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১০টি চারের সাহায্যে ৬৪ বলে ৫২ রান করেন জয়। ক্রিজে মুমিনুলের সঙ্গী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২১ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৯৬। লিড এখন ১৪২ রান। ৩ রানে খেলছেন জয়। মুমিনুলের রান ২৬।
তানজিদের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে জয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুমিনুল হক। সবশেষ তিন ইনিংসে রান না পাওয়া জয় আজ শুরু থেকেই ছিলেন দারুণ ছন্দে। হাসান আলীর বলে মুমিনুল চার মারার পরপরই বাংলাদেশের লিড একশ পার হয়ে যায়। এরপর মাত্র ৫৪ বলে মুমিনুল-জয় জুটি পঞ্চাশ রান স্পর্শ করে। ১৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৬৯ রান, আর লিড পৌঁছায় ১১৫ রানে।
প্রথম ইনিংসে ২৬ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবার প্রথম বলেই চার মেরে ইতিবাচক শুরু করেছিলেন। তবে খুররম শাহজাদের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। মাত্র ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এর আগে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩২ রানেই থমকে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ করায় লিড হয়েছে ৪৬ রানের। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন বাবর আজম। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৮) ও আজান আওয়াইসকে (১৩) ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক-থ্রু দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর অধিনায়ক শান মাসুদ (২১) ও সৌদ শাকিলকে (৮) দ্রুত সাজঘরে পাঠিয়ে মিডল অর্ডার কাঁপিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম সেশনের পর দ্বিতীয় সেশনটিও নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। হাফ সেঞ্চুরি করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা বাবর আজমকে (৬৮) ফিরিয়ে দিনের সবচেয়ে বড় উইকেটটি নেন নাহিদ রানা। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৩), সালমান আলী আঘা (২১) ও হাসান আলীকে (১৮) একে একে ফিরিয়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ ও তাইজুল। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।