ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

দুর্যোগের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

হাওর ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা বাড়ছে।

ফলে শুধু দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে আগাম প্রস্তুতি, পূর্বাভাসভিত্তিক কার্যক্রম এবং জীবিকার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘হাওর বেসিন ও চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক পারিবারিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ (হাউজহোল্ড ইকোনমি অ্যানালাইসিস-এইচইএ) প্রতিবেদন’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ), এফএও, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংগঠন, গবেষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু একটি গবেষণা দলিল নয়, বরং ঝুঁকি ও বিপদাপন্নতা বোঝা, আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক একটি প্রমাণভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধস, অতিবৃষ্টি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের প্রায় ৫৮ শতাংশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস দিনমজুরি হলেও তাদের খাদ্যের বড় অংশ বাজার থেকে কিনতে হয়। ফলে দুর্যোগের সময় তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নারীর অর্থনৈতিক অবদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় অঞ্চলে অতি দরিদ্র পরিবারের মোট আয়ের প্রায় ৮ দশমিক ৬ থেকে ৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে।

তবে দুর্যোগের সময় এই আয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তাই নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই বোরো ধান কাটার মৌসুমে আঘাত হানে, ফলে বছরের প্রধান ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। একইভাবে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও অতিবৃষ্টি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি বাজার ও সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়।

ভূমিমন্ত্রী জানান, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দখল ও দূষণ রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে দখল, ভরাট, দূষণ ও প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নদী, খাল, বিল, হাওর ও অন্যান্য জলমহাল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো পরিবেশ ও লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এসব রক্ষায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ভূমিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এটি ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Link copied!