প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আপনারা দলে দলে সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীলতা, সচেতনতা ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সফল করে তুলি। ভয় নয়—আশা নিয়ে; উদাসীনতা নয়—দায়িত্ববোধ নিয়ে; বিভক্তি নয়—ঐক্যের শক্তি নিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোটের মাধ্যমেই আমরা প্রমাণ করব—বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে জানে।
আপনার ভোটেই রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছন প্রধান উপদেষ্টা। এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা এবং জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভাষণে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হলো সচেতনতা ও সত্য তথ্য। নির্বাচন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যাঁরা পরিকল্পিতভাবে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁরা এখন পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার সেই প্রচেষ্টা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাষণে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সব ধরনের অপপ্রচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য জানার জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন–সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ‘নির্বাচনবন্ধু হটলাইন’ ৩৩৩ নম্বরে ফোন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার। নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে এবং এর মধ্য দিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব শেষ করবে। এই ধরনের গুজব দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
আপনার মতামত লিখুন :