ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

লঞ্চ দুর্ঘটনা ও ট্রেন লাইনচ্যুতি : তদন্ত ও শাস্তির দাবি জামায়াতের

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

লঞ্চ দুর্ঘটনা ও ট্রেন লাইনচ্যুতি : তদন্ত ও শাস্তির দাবি জামায়াতের

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে জামায়াত জানিয়েছে, ‘সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সত্যিই সহ্য করা কঠিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

একই সঙ্গে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সব যাত্রীর আশু আরোগ্য কামনা করেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি মৌলিক দায়িত্ব।’

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বানুমেয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি—এসব সমস্যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

একইসঙ্গে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলো এবং ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।’

Link copied!