বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে চলছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সম্ভাব্য কাঠামো ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী বাজেট অধিবেশনের আগেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলটির নেতারা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে যাওয়ার পর থেকেই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর লক্ষ্য সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা।
সম্প্রতি জাপান সফরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এ পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক পর্যায়ে কাজ আরও এগিয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই কাঠামোয় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রশিবির নেতাদেরও যুক্ত করার আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও এই কাঠামোয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে।
দলটির নেতারা জানান, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দলীয় অবস্থান তুলে ধরবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের জবাবদিহিতা ও নীতিগত প্রস্তুতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে।