পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা ও মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সংকট জটিল হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এই সংকটের বিষয়টি খোলাসা করা হলেও বিরোধী দল এ নিয়ে ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করছে’ বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সেমিনারে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী।
তিনি বলেন, “গ্যাস সংকট এটা সম্পূর্ণভাবে বাইরের বিষয়…এটা খুলে বলা হয়েছে। বিরোধী দলকে বলা হয়েছে এটার একটা সমাধানের পরিকল্পনা দেন, রূপরেখা দেন। গতকাল (সোমবার) কিছু কথা সংসদে বলেছে, কিন্তু আগে কোনো কথা বলেনি।
“অথচ বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করে আপনি কী লাভ করতে চান? রাজনৈতিক লাভ তো? রাজনৈতিক লাভ হয় না। আপনি যদি পরিকল্পিতভাবে এটা করতে যান, এটা মানুষ গ্রহণ করে না এবং মানুষের মনের মধ্যে গাঁথে না।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “পূর্ববর্তী ১৭ বছর কী হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে প্রাইভেট খাতে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলেও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানগুলো অলসভাবে পড়ে ছিল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অঢেল টাকা চলে গেছে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকের কাছে।
“এরা (বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক) কারা? শেখ হাসিনার আত্মীয়-স্বজন বা তাদের লোকজনের কাছে। তাদের পকেট ভারী করার জন্য, তাদের শাড়ির আঁচলে টাকা বেঁধে রাখার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের স্বজনদের কাছে রাষ্ট্রের টাকা চলে গেছে। এই যে লুটপাটতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে অর্থ পাচার করেছে। এসবের ওপরে যাতে কেউ মামলা করতে না পারে সেজন্য ওরা দায়মুক্তি আইনও করেছিল।”
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শিরোনামে এ সেমিনার হয়।
রিজভী বলেন, “বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সরকারের তৈরি নয়। সংকটটি গ্লোবাল; যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
“এটা যদি বুঝতাম যে, সরকার অতীতের ব্যর্থতাগুলো বলেই চুপ করে বসে আছে, তা তো না। সংকট সমাধানে সরকার চুপ করে বসে নেই। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস আমদানির জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে।”
গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, “আগের সরকার এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দিতে ইনডেমনিটি আইনও করা হয়েছিল।”
জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, সহ গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন বক্তব্য দেন।