কাল অনুশীলন ছিল না কোনো দলের। তবে অনুশীলন না থাকলে যেটা হতো, না থাকাতেও সেটাই হলো। বিশ্রামের দিনে হোটেল লবিতে নাহিদ রানাকে পেয়েই ক্লিক করে উঠল ক্যামেরা।
কেন, তা নিশ্চয়ই বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরশু সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে যে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ২০৯ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিল বাংলাদেশ, সেটা তো নাহিদের আগুনঝরানো বোলিংয়ের সুবাদেই!
তাই বলে ভাববেন না উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য বধ্যভূমি ছিল। ১১৪ রানের ম্যাচেই কিন্তু ৩২ বলে ফিফটি করেছেন বাংলাদেশ ওপেনার তানজিদ হাসান, ম্যাচ জিতিয়েছেন ৪২ বলে অপরাজিত ৬২ করে। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের তাই উইকেটকে দোষ দেওয়ার সুযোগ ছিল না। মিরপুরের উইকেট বরং চরিত্র বদলে এখন পুরোপুরিই স্পোর্টিং।

৩২ বলে ফিফটি করেছেন তানজিদ
‘এখন’ শব্দটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্য উইকেটের আচরণ আজও থাকতে হবে একই রকম। সিরিজ জয়ের উপলক্ষ হয়ে আসা ম্যাচটাতে বাংলাদেশেরও প্রমাণের থাকবে কিছু। পাকিস্তানকে দাঁড়ানোরই সুযোগ না দিয়ে ভোজবাজির মতো প্রথম ম্যাচটা জিতে গেছে বাংলাদেশ। মুখোমুখি হতে হয়নি কোনো চ্যালেঞ্জের, সম্ভাব্য ফাঁকফোকরগুলোও রয়ে গেছে অনাবিষ্কৃত। পাকিস্তান আজ নিজেদের ফিরে পেলে কিছুটা পরীক্ষার সামনে পড়তে হলেও হতে পারে। কী হতে পারে সেই পরীক্ষা?
টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরাই জিতিয়ে দেওয়ায় প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সময় কেটেছে ডাগআউটে। কোনো কারণে ওপরের দিকের ব্যাটসম্যানরা ভালো শুরু না দিতে পারলে স্পোর্টিং উইকেটের সুবিধা নিয়ে মিডল অর্ডার কি পারত সহজে ম্যাচ জিতিয়ে আনতে? কিংবা পাকিস্তান যদি ও রকম হুড়মুড়িয়ে ভেঙে না পড়ে ইনিংস বড় করে ফেলত, বাংলাদেশ কি পারত সেটি তাড়া করে জিততে?
অথবা ধরুন, নাহিদ রানা ও রকম বিধ্বংসী বোলিংটা করেনইনি। নিজের টানা ৫ ওভারে ৫ উইকেট নেননি। অন্য বোলারদের কেউ কি তখন পাকিস্তানকে দ্রুত শেষ করে দেওয়ার দায়িত্বটা নিতেন? নাহিদ উইকেট থেকে যে পরিমাণ পেস, বাউন্স পেয়েছেন, ততটা কিন্তু পাননি মোস্তাফিজ, তাসকিন। আবার এ ধরনের উইকেটে ব্যাটসম্যান ভুল না করলে স্পিনারদেরও তেমন কিছু করার থাকে না। বিসিবির দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় কাল মিরাজও বলেছেন, ‘যেহেতু এখানে আমরা ট্রু উইকেটে খেলছি, একজন স্পিনার হিসেবে ট্রু উইকেটে বল করাটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং।’
তাসকিন, মোস্তাফিজের একটি করে উইকেটের সঙ্গে মিরাজ নিয়েছেন তিনটি। কিন্তু সেগুলোকে তো নাহিদের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ধসে পড়া পাকিস্তানের ডালপালা হিসেবেও নেওয়া যায়। আকস্মিক চাপের ধাক্কা সামলে উঠতে না পারার এমন উদাহরণের অভাব নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। প্রশ্নটা তাই ওখানে—নাহিদ পাকিস্তানের ইনিংসটাকে খাদের কিনারে নিয়ে না গেলে অন্যরা কি পারতেন গর্তটা খুঁড়তে?

গত ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
সিরিজ জয়ের ম্যাচে আজ এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি না হওয়াই ভালো বাংলাদেশের জন্য। তবে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য সে রকম প্রশ্নপত্র নিয়েই নিশ্চয়ই মাঠে নামতে চাইবে শাহিন শাহ আফ্রিদির পাকিস্তান
আপনার মতামত লিখুন :