শুরু ও শেষে জয়ের নির্যাস আস্বাদন করেছেন সমর্থকরা। তিন ম্যাচের দ্বিতীয়টি বাদ দিলে সিরিজজুড়েই বিচরণ করেছে বাংলাদেশ। সবকিছুতেই ভালোর ছাপ। একপেশে খেলে জিতেছিল প্রথম ম্যাচ, নাটকীয়তায় ভরপুর শেষ ম্যাচটি জিতেছে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে।
স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে এমন সাফল্য পাওয়া দারুণ ব্যাপার। কেউ কেউ মনে করেন, সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে বড় দলের মতো খেলেছে বাংলাদেশ। জাতীয় দলের সাবেক তিন অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ফারুক আহমেদ ও হাবিবুল বাশারের বিশ্বাস, ক্রিকেটে প্রাণ ফেরাবে এই সিরিজ জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে বছরের প্রথম সিরিজ জয়কে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ফারুক আহমেদ। ওয়ানডে ক্রিকেটে স্বস্তির সিরিজ জয় বলছেন হাবিবুল বাশার। আর রকিবুল হাসানের দৃষ্টিতে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে সাজঘরে।
বাংলাদেশের প্রিয় সংস্করণ ছিল এক দিনের ক্রিকেট। মাশরাফি বিন মুর্তজারা বিশ্বের যে কোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারতেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ থেকে সেই গৌরব ম্লান হতে বসেছে। গত দুই বছরে দেশে-বিদেশে খেলা বেশির ভাগ ওয়ানডে ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ২৩ ওয়ানডে খেলে জিতেছে মাত্র সাতটিতে। সমর্থকরা একটু একটু করে প্রিয় দলের পতন দেখেছেন। তবে গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ জিতে লড়াইয়ে ফেরার বার্তা দেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছে।
বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এত উথালপাতালের মধ্যেও ছেলেরা অনেক ভালো খেলেছে। সম্প্রতি ক্রিকেটের বাইরে ইস্যু নিয়ে খুব বেশি চর্চা হয়েছে। ওই জিনিসগুলো ক্রিকেটারদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে পুরো ফোকাসটা ক্রিকেটের বাইরে চলে গেছে। সেদিক থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় বিরাট অর্জন।’ তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশ মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে নিচে ছিল, বিশ্বকাপে যায়নি; আমাদের বিগত পারফরম্যান্সও অত ভালো না। সেদিক থেকে দেখলে এই পারফরম্যান্স পরের সিরিজে ভালো করতে সাহায্য করবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও হাবিবুল বাশারের চোখে বেশ কিছু দুর্বলতা ধরা পড়েছে। মিডল ওভারে ব্রেকথ্রু দেওয়ার মতো বোলার দেখতে পাননি তিনি। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়কের মতে, ‘বোলিংয়ের দিক থেকে দেখলে মাঝখানে উইকেট নিতে পারে, এমন কেউ ছিল না। আমরা শুরুতে ভালো বোলিং করায় রেজাল্ট পেয়েছি। মাঝের ওভারে উইকেট নেওয়া জরুরি। এখন যেভাবে খেলা হয়, তাতে মিডলঅর্ডারে উইকেট নিতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন।’
বাশার মনে করেন, এবার সিরিজ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে আত্মবিশ্বাস পাওয়ার ক্ষেত্রে। কারণ, বাংলাদেশ ওয়ানডেতে অধারাবাহিক। তার ওপর টি২০ বিশ্বকাপে না খেলায় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফোকাসটা সেভাবে ছিল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও উন্নতির অনেক জায়গা দেখেন তিনি, “শেষ ম্যাচে ওপেনিং জুটিটা ভালো হয়েছে। এটাকে ধরে রাখার ব্যাপার আছে। এই ম্যাচে শেষদিকে তেমন রান হয়নি। ২০-৩০ রান অনেক ‘ম্যাটার’ করে। প্রথম দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে সংগ্রাম করেছে বোলাররা। সেদিক থেকে বলব, কিছু কিছু জায়গায় কাজ করতে হবে।”
রকিবুল হাসান পেস বোলিং ইউনিটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ‘স্পিনারদের সঙ্গে আমাদের পেস বোলিং ইউনিট বিশ্বক্রিকেটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে যাচ্ছে। চারজন পেস বোলার রাখা হয়েছিল স্কোয়াডে। আমাদের এই একটি বিভাগ পরিপূর্ণ হয়ে আছে। তাদের যে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খেলানো হচ্ছে, যেটি দারুণ ব্যাপার।’
ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিমের মধ্যে প্রতিভা দেখছেন তিনি, “তানজিদ যে ব্যাটিংটা করেছে, তা বিশ্বমানের। দেশের খেলোয়াড় হওয়ায় আমরা তার প্রশংসা করি না। একজন বিদেশি হলে বলতাম– ‘আহ, কী খেলছে!’ সত্যিই সে অসাধারণ খেলেছে। অফ, অন, স্কয়ার লেগ– সব দিক দিয়ে শট খেলেছে।”
মিডলঅর্ডারে লিটন কুমার দাস দুই ইনিংসই ৪১ রান করে নিয়েছেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাওহীদ হৃদয় রান পেলেও আক্রমণাত্মক ছিলেন না। তবে সবকিছু মিলিয়ে ভালো একটি সিরিজ গেছে বলে মনে করেন রকিবুল হাসান, ‘সিরিজটা ভালো হয়েছে। অনেক আকর্ষণীয় ছিল। পাকিস্তান ছয়জন আনকোড়া খেলোয়াড়কে পরখ করেছে। আমরা পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলেছি। এটা দরকার ছিল। কারণ, আমাদের বিশ্বকাপ খেলতে হবে। আমি মনে করি, দ্বিতীয় ম্যাচ বাদ দিলে সিরিজে দাপটের সঙ্গে খেলেছে বাংলাদেশ। বলার অপেক্ষা রাখে না– ব্যাটার ও বোলারদের যে আত্মবিশ্বাস দেখা গেছে, তা প্রশংসা করার মতো।’
আপনার মতামত লিখুন :