আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শুরু করলেও বাকি দুই ম্যাচ হেরেই বাড়ির পথ ধরে সৌদি আরব। কিন্তু এরপর থেকে তাদের ঘরোয়া ফুটবলে রীতিমতো টাকার ছড়াছড়ি এবং তারকা ফুটবলারের ব্যাপক উপস্থিতি। অর্থাৎ, ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজকরা একটি শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো প্রতিষ্ঠায় বড় বিনিয়োগ করছে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপেও তারা গ্রুপপর্ব পেরোতে ব্যর্থ।
ফলে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করলেন সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসের আল-মিসেহাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে জাতীয় দলের উত্তীর্ণ হতে না পারাটা এমন এক ফলাফল, যা আমাদের সব প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক নিম্নমানের।’
ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সৌদি ফুটবল প্রধান বলছেন, ‘আমি পুরো দায়ভার নিচ্ছি, আমাদের দলকে আরও ভালো অবস্থানে দেখতে চেয়েছেন এমন প্রত্যেকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। দায়িত্ববোধের জায়গায় একটি নতুন অধ্যায় শুরুর সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। এই দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমি বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সাত বছর ধরে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন আল-মিসেহাল। ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পেতে সৌদি আরবের সফল প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। সৌদি আরব তাদের টানা তৃতীয় এবং সবমিলিয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর দুই মাসেরও কম সময় আগে হার্ভে রেনার্ডের পরিবর্তে জর্জিওস ডনিসকে কোচ হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সৌদি সরকার ফুটবলের পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সৌদি ক্লাবগুলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের মতো তারকা খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই এসেছে সৌদি জাতীয় দলের নেতিবাচক ফলাফল।
প্রসঙ্গত, এবারের বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপের লড়াইয়ে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল সৌদি আরবের সামনে। স্পেনের বিপক্ষে হারলেও, উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র তাদের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে। তবে শেষ ম্যাচে তাদের জিততে হতো কেপ ভার্দের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ায় ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় হয় সৌদির। এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয় উরুগুয়েরও বিদায় হয়েছে।