ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তানের স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে চলছে তোলপাড়। সিরিজের মাঝপথে লাল বলের দলের দায়িত্ব পাওয়া সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন বলছেন, এমন ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত’ তার খেলোয়াড়রা।
ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই বাজেভাবে হেরেছে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টের আগে দল থেকে সাত জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় নেওয়া হয়েছে সাত জনকে। এছাড়া প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হেসন সম্প্রতি এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য জাপানে ছিলেন। গত বুধবার ব্রিটনের রাজা চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাতের জন্যই শুধু তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। নিউ জিল্যান্ডের সাবেক এই কোচকে এখন আগামী বুধবার এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের জন্য অস্থায়ীভাবে টেস্ট দলের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে হেসন বলেন, সবকিছু পেছনে রেখে আপাতত শুধু সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান তারা।
“গত কয়েকটা দিন হোটেলে থাকাটা বেশ কঠিন ছিল। কারণ কিছু খেলোয়াড় আসছিল, কিছু খেলোয়াড় চলে যাচ্ছিল এবং তারপর সবাই আসছিল। এই ধরনের কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ছেলেরা সম্ভবত আমার চেয়ে বেশি অভ্যস্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা হতাশ হয়েছে, ভীষণভাবে হতাশ হয়েছে।
“আমাদেরকে ব্যাপারটা আপাতত থামিয়ে দিয়ে ভাবতে হয়েছে, ‘ঠিক আছে, এখন কী করা যায়?’ গত কয়েক দিনে তারা খুব ভালোভাবেই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।”
দলে পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন হেসন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দল থেকে বাদ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ তিন ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হাক, সালমান আলি আগা ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে।
হেসন জানান, এরপর তিনি বোলিং বিভাগ পর্যালোচনা করেন এবং এজবাস্টনের কন্ডিশনের জন্য যা প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে, তার ভিত্তিতে পরিবর্তন আনেন।
প্রথম দুই টেস্টে খেলা স্পিনার আলি উসমান ও পেসার খুররাম শাহজাদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমের জামাল ও আওয়াইস জাফার কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন।
দলে নেওয়া হয়েছে স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস, বাঁহাতি পেসার মোহাম্মাদ ইমরান জুনিয়র, কিপার-ব্যাটসম্যান সাদ বেগ, অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ ইমরান, রাজাউল্লাহ, ব্যাটসম্যান সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফাজালকে। এর মধ্যে কেবল সাইম ও ফাজালের টেস্ট খেলা অভিজ্ঞতা আছে।
হেসন মানছেন, সিরিজের মাঝপথে দলে ঢালাওভাবে পরিবর্তন আনা আদর্শ নয়। একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
“আমি যখন দায়িত্ব নিই, ততক্ষণে তিন খেলোয়াড় রিজওয়ান, ইমাম ও সালমান আলি আগা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে তৃতীয় টেস্টের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
“সিরিজের মাঝপথে এমন কিছু কেউই চায় না, এটা পরিষ্কার। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, শুধু এই টেস্টের জন্যই নয়, একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করাই মূল বিষয়, যাতে আমাদের বোলিং আক্রমণে কিছুটা বৈচিত্র্য থাকে। পাকিস্তান তাদের গতি, অভিনব বোলিং অ্যাকশন, রহস্যময় স্পিনের জন্য পরিচিত- এর কোনোটিই আমরা সেভাবে দেখাতে পারিনি।”