প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
বৈরী আবহাওয়ায় ঈদের নামাজ মসজিদ না ঈদগাহ মাঠে হবে- তা নিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে দু`পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামের রবিউলের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০), মুনার ছেলে গফুর (৪০) ও আলম ( ৪৫), শফিকের ছেলে শাকিল (২৫), আলমের ছেলে রিপন (২৬), আইয়ুবের ছেলে সরোয়ার (৪৫), সরোয়ারের ছেলে আশরাফুল (৩৫), ওসমানের ছেলে শাহিন ( ৩৫), মজিবরের ছেলে জিয়া (৩৭), লবু প্রামাণিকের ছেলে মুসা (৪৫) ও মন্টু ( ৫৫), মন্টু প্রামাণিকের ছেলে জুয়েল (২৭) ও হিরু প্রামাণিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৩৩)। আহতরা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে অন্তত ১২০টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের এবাদতের জন্য একটি মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। শনিবার ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। সেজন্য ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে আটটার পরিবর্তে ঈদের জামাত সাড়ে ৯টায় নির্ধারণ করেন।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। একাংশ মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে চর এলঙ্গী আচার্য জামে মসজিদে নামাজ শুরু করেন। এরপর ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আলম, গফুর ও শাকিলসহ কয়েকজন প্রতিপক্ষের লোকদের ঈদগাহে আসার আহ্বানে সেখানে যান। এ সময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে মন্টু প্রামাণিকের পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গ্রামের চার ভাগের তিন ভাগ মানুষই এবার ঈদে নামাজ পড়তে পারেননি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত রুবেল বলেন, সকালে বৃষ্টির মধ্যে একপক্ষ মসজিদে এবং আরেকপক্ষ ঈদগাহ মাঠে নামাজের পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি করতে করতে মারামারি শুরু হয়ে যায়। মারামারি ঠেকাতে গেলে জুয়েল, মন্টু ও মুসাসহ ১০-১২ জন বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন। তাদের পক্ষের লোকজন ঈদের নামাজ পড়তে পারেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আহত জুয়েল বলেন, বৃষ্টির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষে খুতবার সময় আলম ও শহিদসহ অনেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। এতে তিনি, তার বাবা ও চাচাতো ভাবিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া তাদের পক্ষের কিছু বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
বিকেলে চর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আহত মন্টু প্রামাণিক ও জুয়েলসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে ভাঙচুরের ক্ষত রয়েছে।
এ সময় জুয়েলের ভাবি রোকেয়া খাতুন বলেন, ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে রাস্তায় মারামারি হয়েছিল। আর ওরা আমার বাড়িতে এসে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
রহমানের মা ছারা খাতুন বলেন, এরশেদ, আলম ও সাইফুল এসে আমার ছেলের অটোগাড়ি ও বাড়ি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
আপনার মতামত লিখুন :