প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, এটি কোনো বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত, যেখানে মাঠজুড়ে বেড়ে উঠেছে লাল ও সবুজ শাক। কিন্তু না। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বর্তমান চিত্র এটি।
ঈদুল ফিতরের আগে সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের খেলার মাঠ দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের এসআরবি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিওর বিরুদ্ধে। এনজিওর লোকজন স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে ওই মাঠ প্রথমে চাষ করেন। এরপর মাঠজুড়ে লাল ও সবুজ শাকের বীজ বপন করা হয়। শাকের সঙ্গে লোক দেখানো কিছু ঘাসও লাগানো হয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে এনজিওর লোকজন স্কুল মাঠে সবজি চাষ করেছেন।
বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তারা মাঠে গেলেই সবজি চাষকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখান; বকাঝকা করেন। বর্তমানে সবজির কারণে স্কুল মাঠে খেলতে পারছে না তারা। এমনকি সামান্য জায়গাতেই সারতে হচ্ছে অ্যাসেম্বলি।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭৩ শতক জমির উপর অবস্থিত ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১২৪ জন, শিক্ষক ৬ জন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে স্কুল মাঠ মাটি ফেলে ভরাট করা হয়। সারাদেশের মতো এই স্কুলও রমজানের শুরুতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়।
মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, মাঠজুড়ে লাল ও সবুজ শাক। এর তিন পাশ নেট দিয়ে ঘেরা। শিক্ষার্থীরা স্কুলের এক প্রান্তে অ্যাসেম্বলি করছে। এ সময় সাংবাদিক দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এসআরবি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুমায়ন কবির মন্টু। তিনি তাঁর এনজিও সদস্যদের স্কুল মাঠে সবজির বীজ ছিটানোর কথা স্বীকার করেন। একই সময় গ্রামের নারী ও কিছু পুরুষ ছুটে আসেন সেই সবজি তুলতে।
প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাহাদ হোসেন জানায়, শাক আবাদের কারণে তারা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। সেখানে গেলেই তাদের বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেন শাক আবাদকারীরা।
সরকারি স্কুলের মাঠ দখল করে কেন সবজি চাষ করা হলো– এমন প্রশ্ন করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হুমায়ুন কবির মন্টু। তিনি বলেন, মাঠে ঘাস নেই। তাই ঘাসের জন্য এটা করা হয়েছে। করেছি; তাতে কী হয়েছে? জনগণের জিনিস জনগণ করে খাচ্ছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, সামনের দিন থেকে গ্রামের কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে আসবে না। তাহলে সরকারি স্কুল চলবে কী করে, দেখা যাবে।
ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, এসআরবি সংস্থার মন্টু তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর এনজিওর পক্ষ থেকে স্কুল মাঠ সমতল করতে চাচ্ছেন। ঈদের ছুটি শেষে তিনি গত ২৬ মার্চ স্কুলে এসে দেখেন, স্কুলের মাঠে শাকের আবাদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তিনি কিছুই টের পাননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচএম রোকনুজ্জামান জানান, স্কুল মাঠে সবজি চাষের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তাদের অবহিত করেননি। অভিযোগ এসেছে, ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্কুল মাঠটি লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবর চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি। এ ব্যাপারে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, অবশ্যই সেটা নেওয়া হবে।