ঢাকা সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

মাটির নিচে রহস্যময় শব্দ, গ্যাস নাকি অন্য কিছু?

আমাদের খবর ২৪/ কেপি

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

মাটির নিচে রহস্যময় শব্দ, গ্যাস নাকি অন্য কিছু?

মাটির নিচ থেকে ভেসে আসা অদ্ভুত শব্দে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে ভেসে আসা অদ্ভুত শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। রহস্যময় এ শব্দকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল ও উদ্বেগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে প্রান্তিক কৃষক আশোক আলী মৃধা প্রতিদিনের মতো নিজ জমিতে গরু চরাতে গিয়ে প্রথম এই শব্দ শুনতে পান। চিরচেনা সেই জমিতে হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক শব্দে তিনি বিস্মিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পেরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন উৎসুক গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অর্ধশতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে আছেন। কেউ কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ছেন, কেউ আবার গর্ত থেকে বের হওয়া পানি ও মাটির গন্ধ শুঁকে দেখছেন।

স্থানীয়দের দাবি, মাটি খোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এবং আশপাশে ছোট ছোট বুদবুদও দেখা যায়।

জমির মালিক আশোক আলী মৃধা বলেন, ‘প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। পরে লোকজন ডেকে এনে দেখালেও রহস্যের কোনো সমাধান হয়নি। এখন মনে হচ্ছে, মাটির নিচে হয়তো গ্যাসের উপস্থিতি থাকতে পারে।’

একই এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদ মৃধা জানান, ‘মাটি কাটার সময় শব্দ আরও বেড়ে যায়। এতে আমরা ভয় পেয়ে যাই। এর কয়েকদিন পর সেই জায়গায় পানি জমে শব্দ বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু পাশের আরেক স্থানে আবার একই শব্দ শুরু হয়েছে।’

স্থানীয় সচেতন নাগরিক নওয়াব আলী বলেন, ‘দুদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক শব্দে মানুষ আতঙ্কিত। তাই আমরা পুলিশের জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিয়েছি। বিষয়টি দ্রুত সরকারিভাবে পরীক্ষা করা দরকার।’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিন গাজী বলেন, ‘সাধারণত মাটির ওপরের স্তরে প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার সম্ভাবনা খুব কম। তবে এটি মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির কারণে হতে পারে। পাশের ভোলা জেলায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসিন সাদিক বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এমন বিষয় পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

Link copied!