ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

যেভাবে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, ভারতের আধার কার্ডসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন পুলিশ সুপার

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

যেভাবে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, ভারতের আধার কার্ডসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন পুলিশ সুপার

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম (ইনসেটে গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন)।

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার ভোর ৬টার দিকে ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের কথা ছিল তার। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্যও একটি পক্ষ প্রস্তুত ছিল।

পুলিশ সুপার জানান, ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। ফটিকছড়িতে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ আলম বলেন, এখন পর্যন্ত ডেভিড ইমন বা তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য মেলেনি। তার ভাষ্য, গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কিছুটা শিথিলতা থাকায় তারা বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের সুযোগ পেয়েছিল। তবে চট্টগ্রামে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে নিয়ে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

যেভাবে ধরা পড়েন ডেভিড ইমন
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চারটি দল, কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল এবং চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

তিনি বলেন, আটক হওয়ার পর ডেভিড ইমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আগেই তথ্য ছিল, তিনি ঝিকরগাছা সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছেন। এ কাজে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নাজিমুল হক জানান, ডেভিড ইমন চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে থাকায় তাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। পুনরায় ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, তার কাছে দেশি ও বিদেশি—দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন।

পুলিশের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেভিড ইমন। দুবাইয়ে থাকা সাজ্জাদের নির্দেশনায় তিনি চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচটি থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গত দেড় বছরে সংঘটিত একাধিক আলোচিত জোড়া হত্যা, চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তার নাম উঠে এসেছে।

সবশেষ গত ১১ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়ায় তার অনুসারীরা ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

Link copied!