ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

এলপিআরের পরও কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাবেক হিসাবরক্ষকের ‘সিন্ডিকেট’!

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

এলপিআরের পরও কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাবেক হিসাবরক্ষকের ‘সিন্ডিকেট’!

কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক হিসাবরক্ষক মো. আলফাজ হোসেন।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক হিসাবরক্ষক মো. আলফাজ হোসেনকে ঘিরে এলপিআরে (অবসর-পূর্ব ছুটি) যাওয়ার পরও হাসপাতালের প্রশাসনিক ও ক্রয়সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তার একাধিক সাবেক সহকর্মীর দাবি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এলপিআরে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুবাদে আলফাজ হোসেন হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে একটি প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এলপিআরে যাওয়ার পরও সেই প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল রিকুইজিট (এমএসআর) ক্রয়, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাদের ভাষ্য, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এসব বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এলপিআরে থাকা অবস্থায় তার নিয়মিত অফিসে আসা-যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তিনি এখনো বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও তার সাবেক সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, চাকরিজীবনে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আলফাজ হোসেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে থাকাকালে তিনি কুমারখালীতে একটি তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং তার আরও সম্পদ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, তার বৈধ আয়ের সঙ্গে বর্তমান সম্পদের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে দেখা উচিত।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও) বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার কাছে এলে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ কামাল উদ্দিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত কমিটি করা হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে মো. আলফাজ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এলপিআরে থাকা একজন সাবেক সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও টেন্ডারে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এলপিআরের পর তার অফিসে উপস্থিতি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, এমএসআর টেন্ডারে প্রভাবের অভিযোগ এবং সম্পদের উৎস তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

Link copied!