ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জনকে আসামি করে চার্জশিট

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জনকে আসামি করে চার্জশিট

রাজধানীর বেইলি রোডে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৯ এপ্রিল।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৪৬ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশু ছিল। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ৭৫ জনকে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শাহজালাল মুন্সী বলেন, ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক রেস্টুরেন্ট ও কফিশপ পরিচালিত হচ্ছিল। অনুমোদিত নকশা অমান্য করে ভবনটি নবম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় এবং আবাসিক ভবনটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা জরুরি নির্গমন পথ ছিল না।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ভবনের নিচতলায় থাকা ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপে ব্যবহৃত একটি ইলেকট্রিক কেটলি থেকে। আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে অধিকাংশ তলায় জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় এবং একমাত্র সিঁড়িটি বিভিন্ন মালামাল ও গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত থাকায় অনেকেই বের হতে পারেননি।

বিশেষ করে ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার পর প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। 

চার্জশিটে বলা হয়, ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার পর প্রধান ফটক বন্ধ হয়ে যায়। তদন্তে উঠে এসেছে, বিল পরিশোধ ছাড়া কাউকে বের হতে না দেওয়ার 
কারণে ফটকটি বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং আগুনের সময়ও তা খোলা হয়নি। ফলে ভেতরে থাকা লোকজন বের হতে না পেরে ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যে তারা শ্বাসরোধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। এ রেস্টুরেন্টেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে।

এছাড়া ভবনের বিভিন্ন তলায় দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি ইন্টেরিয়র, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার এবং ছাদে অবৈধ স্থাপনার কারণে খোলা জায়গার অভাব আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে। লিপ ইয়ার উপলক্ষে বিশেষ ছাড় থাকায় সেদিন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভিড় ছিল, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় রমনা থানার এসআই মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মামলা করেন। পরে থানা পুলিশ থেকে মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

মামলায় আসামি করা হয়- চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ৬ষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজা ইন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মারা যাওয়ায় স্পেস মালিক এ.কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে থাকা মো. আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় তাদেরকেও অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

তদন্তকালে ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আরও ১৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ গঠন করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Link copied!