ঢাকা রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

তেলের ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়ালে বাড়তি ব্যয় হবে ৬১ হাজার কোটি টাকা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

তেলের ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়ালে বাড়তি ব্যয় হবে ৬১ হাজার কোটি টাকা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লেই বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়ে। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে দাম ১২০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়। বিসিক শিল্পনগরীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ডিকার্বনাইজেশনের সম্ভাবনা নিয়ে শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান বলেন, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের সামান্য ওঠানামাও সরাসরি ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, প্রতি ১০ ডলার দাম বাড়লে মাসিক ব্যয় প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে যায়, যা বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। একপর্যায়ে মূল্য সমন্বয়ের চাপ তৈরি হবে, যা শিল্প খাতে উৎপাদন কমে যাওয়া বা ‘ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (এসএমই)। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই এ খাতনির্ভর। ফলে এ খাতে ধাক্কা লাগলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বড় শিল্প খাতও এর বাইরে নয়, কারণ গার্মেন্টসসহ অনেক শিল্পই এসএমই খাতের ওপর নির্ভরশীল।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সংকট একই সঙ্গে একটি সুযোগও তৈরি করেছে। এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বিসিক শিল্পনগরীগুলোর খালি জায়গার মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেই ৫৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এটি বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা গেলে উৎপাদন সক্ষমতা ১১৪ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এতে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে। এ ছাড়া পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে বছরে ১৪ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার আওতায় এতে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, দেশের শিল্প ইউনিটের ৯০ শতাংশের বেশি এসএমই খাতভুক্ত এবং তারা শিল্প খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তিকে কর্মসংস্থান দেয়। জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। তবে এ খাত এখনও মূলত জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, যা বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।বাংলাদেশের নির্ধারিত জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি খাত থেকে ৬৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে শিল্প খাতে জ্বালানির রূপান্তর এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Link copied!