প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ্যের অবসান হবে। মমতা সরকারের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিদায় নিতে হবে তৃণমূল সরকারের।’
গতকাল শনিবার বিকেলে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিজেপির মহাসমাবেশে এ কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আগামী এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই মোদির এই সফর।
গতকালের সভায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতি, অত্যাচারের জবাব দেবে এই বাংলার মানুষ এবারের নির্বাচনে। বিদায় নিতেই হবে মমতার তৃণমূল সরকারের। আসবে বিজেপির নতুন সরকার। বিজেপিই গড়বে এই বাংলাকে নতুন বাংলারূপে। মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে, পেটে ভাত জোগাবে, অন্ন–বস্ত্রের গ্যারান্টি দেবে।’
মোদি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেছেন, ২০২৬–এ এই বাংলা থেকে তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজের বিদায় হবে। চোরের রাজত্বের অবসান হবে। মানুষ তো জানে, কে এই রাজ্যের মহা চোর।
মোদি বলেন, ‘কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে মানুষের ঢল দেখে বুঝেছি, কী চাইছেন এই রাজ্যবাসী। চাইছে মমতার জঙ্গলরাজের অবসান। এই দুর্নীতিবাজ সরকারের সব অপরাধের তদন্ত হবে, বিচার হবে। কেউ রেহাই পাবে না। তৃণমূলের অত্যাচারীদের কোনো ক্ষমা নেই।’
মোদি অভিযোগের সুরে আরও বলেন, ‘এই বাংলার সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজের প্রকল্প হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পে ব্রেক লাগিয়ে দিয়েছে। এই রাজ্যে বিনা খরচের চিকিৎসার প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত চালু করতে দেয়নি। চা–বাগানের শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দেয়নি।’
মোদি বলেন, এই রাজ্যের তৃণমূল সরকার চাকরি বিক্রি করেছে। এই সরকার কাটমানি না পেলে কোনো কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রামে পৌঁছায় না। ব্রেক কষে দেয়। তাই এই বাংলা থেকে তৃণমূল বিদায় নিলে বাংলায় সুশাসন আসবে। সব গরিবেরা পাবে পাকা বসতঘর।
তবে গতকাল ব্রিগেডে আসার পথে বিজেপির মিছিলকারীদের সঙ্গে তৃণমূলের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায়। ঘটনাস্থলের কাছে তৃণমূলের নারী মন্ত্রী শশী পাঁজার বাসভবন। এখানে বিজেপির মিছিলের ওপর হামলা হয়। পরে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল ছোড়া হয়।
মোদি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অসম্মান করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আদিবাসী এই রাষ্ট্রপতির তৃণমূলের অসম্মানের জবাব দেবে রাজ্যের আদিবাসী সমাজ এবার।
গতকাল নরেন্দ্র মোদি এই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি রুপির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেন।
বিজেপি এই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে ২ মার্চ রাজ্যের ৯ প্রান্ত থেকে শুরু করেছিল ‘পরিবর্তন যাত্রা’। সেই যাত্রা শেষ হয় ১০ মার্চ কলকাতায়। গতকাল সেই পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তির পর ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হয় মহাসমাবেশ।
সর্বশেষ এই রাজ্যের বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচন হয় ২০২১ সালে। ওই নির্বাচনে বিজেপি ৭৭ আসনে জয়ী হয়। তৃণমূল পায় ২১৩ আসন। বামদল এবং কংগ্রেস কোনো আসনে জিততে পারেনি। আর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপি জেতে ১২টি আসনে। যদিও তারা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ১৮টি আসনে। আর ২০১৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ৩টি আসনে। ওই বছর বামফ্রন্ট ৩২টি এবং এবং কংগ্রেস ৪৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তৃণমূল পেয়েছিল ২১১টি আসন।
আপনার মতামত লিখুন :