ঢাকা রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ কেন গুরুত্বপূর্ণ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম

ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারত মহাসাগরের ঠিক মাঝখানে ছোট্ট এক দ্বীপ ‘দিয়েগো গার্সিয়া’। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম এই দ্বীপ সাধারণ মানচিত্রে খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে সামরিক কৌশলের দিক থেকে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আলোচনা উঠে এসেছে এই সামরিক ঘাঁটি।

বিবিসি বলছে, দিয়েগো গার্সিয়া মূলত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি। নিকটতম জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগ থেকে এটি প্রায় ১ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। দুর্গম অবস্থানের কারণে এখানে সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বিশেষ করে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে এবং ‘ডিফেন্সিভ অপারেশন’ বা আত্মরক্ষামূলক অভিযানের জন্য এটি ব্যবহার হচ্ছে।

গত শুক্রবার এক বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে ইরান শাসিত ‘হরমুজ প্রণালি’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য এই ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমতি পায় মার্কিন বাহিনী।

দিয়েগো গার্সিয়ার মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে। তবে গত বছরের মে মাসের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য দ্বীপটি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেয়। এর বিনিময়ে মরিশাসকে বছরে গড়ে প্রায় ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে যুক্তরাজ্য। ধারণা করা হয়, এই চুক্তির মূল লক্ষ্যই ছিল ভারত মহাসাগরে পশ্চিমা সামরিক আধিপত্য নিশ্চিত করা।

ইরান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবরটি সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কারণ হলো, এখান থেকে মার্কিন বি-৫২ ও বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান দূরপাল্লার মিশনে উড্ডয়ন করে; এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় এটি পুরো ভারত মহাসাগরের নৌপথ নিয়ন্ত্রণের ‘স্নায়ুকেন্দ্র’ এবং এখান থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ওপর সার্বক্ষণিক স্যাটেলাইট ও রাডার নজরদারি চালানো হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষিত একটি দুর্গে আঘাত। এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ এবং এখান থেকে পরিচালিত আক্রমণই হয়তো নির্ধারণ করবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী গতিপথ।

Link copied!