সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেইনে অন্যতম বড় আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়া থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ইউক্রেইনে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বুধবারের এ হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুও আছে আর এতে শিল্প কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেইনের উত্তরাঞ্চলীয় চের্নিহিনিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহর। এখানে রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
চের্নিহিভের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানিয়েছেন, এতে প্রাথমিকভাবে পাঁচ শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাজধানী কিইভ থেকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শহরতলী এলাকায় এক ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোন হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০০ জন আহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনেই (৭ অক্টোবর) চালানো হয়েছে।
নিজের রাত্রিকালীন ভিডিও বক্তৃতায় জেলেনস্কি বলেছেন, “জন্মদিনে এ ধরনেই উপহার পুতিন নিজেকে দিয়েছেন: শিশুদের হত্যা করেছেন, বেসামরিকদের হত্যা করেছেন।”
ইউক্রেনের চের্নিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধারের কাজ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা মন্তব্যে জেলেনস্কি জানান, ব্যাপক এই হামলা চলাকালে কিইভ ও কেন্দ্রীয় শহর ওলেকসান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুকে বেসামরিকরাও নিহত হয়েছেন।
তিনি জানান, রাতে ইউক্রেইন লক্ষ্য করে রাশিয়া মোট ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র (এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র) ও কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে।
“রুশরা বেদনাদায়ক ও প্রদর্শনমূলকভাবে আঘাত হানতে চেয়েছিল। এটি ছিল সবচেয়ে জঘন্যতম আঘাতগুলোর মধ্যে একটি,” বলেছেন জেলেনস্কি।
প্রিলুকিতে একটি পাঁচতলা ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের কয়েকটি সেকশন ধসে পড়েছে। এই শহরে প্রায় ৫৫ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেইনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, তিনি ও তার দলের লোকজন ‘প্রতিদিন (মার্কিন) প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী পদ্ধতির জন্য’ ধর্না দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাটিই ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারের একমাত্র অস্ত্র যা অত্যন্ত দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে এর মজুদ অনেক কমে গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কিয়েভ এবং কিয়েভ, চেরনিহিভ, কিরোভোহরাদ, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের এমন সব স্থাপনা, যেখানে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি `ফায়ার পয়েন্ট` তাদের `ফ্ল্যামিঙ্গো` ক্রুজ মিসাইল এবং মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করে।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে; এটি তৈরি করেছে ‘ফায়ার পয়েন্ট’নামের একটি কোম্পানি। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শরৎকালের মধ্যেই কোম্পানিটি আরও বেশি পাল্লার ‘এফপি-৯’ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করে ফেলবে বলে তিনি আশা করছেন। ফায়ার পয়েন্ট জানিয়েছে যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি মস্কো পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হবে।