ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, হাইকোর্টের রায় স্থগিত

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, হাইকোর্টের রায় স্থগিত

হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এই নীতিমালার ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে নীতিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির সারের ডিলারশিপ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকলো না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বুধবার (৭ অক্টোবর) হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা জুঁই। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকরামুল হক টুটুল।

এর আগে, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ নিতে পারবে না, সরকারের এই নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন ৫ ব্যক্তি। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নীতিমালার কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

চেম্বার আদারতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে সার ডিলার এবং সার বিতরণ সংক্রান্ত ২০০৯ সালে একটা নীতিমালা ছিল। ২০০৯ সালে যে নীতিমালা ছিল, সেই নীতিমালায় কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকতে পারবেন কি পারবেন না। অর্থাৎ একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, ছেলের নামে, মেয়ের নামে, পুত্রবধূর নামে—এভাবে তাদের নামে বিভিন্ন সময়ে একটা কোটারি সৃষ্টি করা হতো এবং একটা পারিবারিক মনোপলি একটা সৃষ্টি করা হতো।’

তিনি বলেন, ‘সেটা সংশোধনের জন্য ২০২৫ সালে যখন নীতিমালা আসে, সেই নীতিমালাও সংশোধন করে পরিবারের একই পরিবারভুক্ত সদস্যরা যেন একাধিক ডিলারশিপ না নিতে পারে কিংবা তারা যেন রাষ্ট্রকে, সরকারকে ও কৃষককে জিম্মি করতে না পারে—সেজন্য একটি সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনটা বর্তমান সরকার আসার পরে চলতি বছরের আগস্টে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন অবস্থায়, পারিবারিকভাবে যারা দীর্ঘদিন পর্যন্ত এই ব্যবসাটাকে জিম্মি করেছিলেন, এমন পাঁচজন পরিবারের সদস্য গতকাল অর্থাৎ ৬ অক্টোবরে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে সরকারের প্রণীত নীতিমালার এই অংশটুকু চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুইটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এই দুইটি রিট পিটিশনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ অনুযায়ী তাদেরকে যেন কোনোভাবেই তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাদ করে দেওয়া না হয় এবং তারা যেন পূর্বের মতোই পারিবারিক বন্ধন অটুট রেখে এভাবে সার ডিলারশিপের পুরোনো ব্যবসাটা চালিয়ে যেতে পারেন—সেটার জন্য তারা রিট পিটিশন ফাইল করেছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রিট পিটিশনে তারা একটা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পেয়েছিলেন, তাদেরকে কেউ সরাতে পারবে না। অর্থাৎ যদিও ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী এখন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, এরপরও তাদেরকে যেন সরানো না হয়—তারা এমন স্থিতাবস্থার একটা আদেশ পেয়েছিলেন।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গতকালই আমাদের সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা আদালতের কাছে বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেছেন, যে নীতিমালা তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেটা এখনো কার্যকর হয়নি। কারণ সার ডিলারের ডিলারশিপ নিয়োগের প্রক্রিয়াটা চলমান। বিতরণের পর্যায় তো এখন পর্যন্ত আসেনি নতুনদের ক্ষেত্রে।’

তিনি বলেন, ‘তবুও হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে এবং আইনগতভাবে আমাদের যেটা করণীয়, আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে গতকালই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল ফাইল করেছি। আজকে চেম্বার বিচারপতি, বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক আমাদের এই আপিলটি শুনেছেন এবং নিয়মিত আদালতের নিয়মিত কার্যতালিকার বাইরেই এটাকে সংযুক্ত করে আমাদের মামলাটি শুনেছেন। অন্য পক্ষের আইনজীবী একরামুল হক টুটুল, যিনি রিট পিটিশনারের পক্ষে আছেন, তার বক্তব্যও শুনেছেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বলেছেন যে, হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই এই স্থগিতের অর্থ হচ্ছে, এই আদেশটির ফলে এই নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে কিংবা এই নীতিমালার যে বিধান, সেই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে নতুন করে রিট পিটিশন হওয়ার সুযোগ আর থাকলো না বলে আমরা মনে করি। বর্তমান সরকারের সময় এই পার্টিকুলার প্রোভিশনটা, পারিবারিকীকরণের যে বিধানটা রহিত করা হয়েছে। কারণ হয়ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা এবং একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে সুযোগ না দিয়ে সারের ডিলারশিপের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করা। একই সঙ্গে, বিতরণ কার্যক্রম যেন সঠিকভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছে এবং সার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কৃষক যেন কোনো কারণে বিড়ম্বনার শিকার না হন—সেটা সুনিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা বহাল থাকলো। অর্থাৎ সরকারের এই নীতিমালা প্রণয়নটা এজ ইট ইজ—এটা সরকার যেভাবে করেছেন, সেভাবেই এর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচিত হবে।’

Link copied!