প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:২৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। দেশটির চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটি গ্রেপ্তারকৃতদের নাম, পরিচয় ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তালিকা প্রকাশ করেছে।
মূলত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।
ডিএইচএসের অধীনস্থ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। যারা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, তাদের ধরতেই এই বিশেষ অভিযান।
ডিএইচএসের ডেপুটি সেক্রেটারি লরেন বেস এক বিবৃতিতে বলেন, "যারা শিশুদের ওপর হামলা চালায় বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জায়গা নেই।" প্রশাসন এসব ব্যক্তিদের ‘নিকৃষ্টতম’ অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ১০ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর সব অভিযোগ রয়েছে। ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট স্কট থেকে গ্রেপ্তার কাজী আবু সাঈদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে অনৈতিক কাজে ব্যবহার ও অবৈধ জুয়া পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনার র্যালি থেকে শাহেদ হাসানকে গোপনে অস্ত্র বহন ও চুরির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। নিউইয়র্কের বাফেলো ও কুইন্স থেকে যথাক্রমে মোহাম্মদ আহমেদ ও এমডি হোসেনকে যৌন অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে ভার্জিনিয়া থেকে মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং টেক্সাস থেকে নেওয়াজ খানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তালিকায় থাকা অন্যান্যের মধ্যে ফ্লোরিডার প্যানসাকোলা থেকে চুরির অভিযোগে শাহরিয়ার আবির, মিশিগানের মাউন্ট ক্লেমেন্স থেকে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির দায়ে আলমগীর চৌধুরী এবং অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে প্রতারণার অভিযোগে কনক পারভেজ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া ভার্জিনিয়ার মানাসাস থেকে ইশতিয়াক রাফিকে অস্ত্র ও সিন্থেটিক মাদক রাখার অভিযোগে আটক করা হয়।
ডিএইচএস স্পষ্ট জানিয়েছে, সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন, মাদক পাচার ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।