ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

‘৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব না’

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৮:২৪ এএম

‘৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ সম্ভব না’

দেশে নারীদের হাসির মোহড়ায় পরিণত করে, এই ৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ রচনার কোনও চিন্তা যদি কেউ করে থাকে সেটা কখনও সম্ভব না। কোনোদিনও সম্ভব না।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) রুমিন ফারহানা।  

তিনি বলেন, হাজার মানুষের আত্মত্যাগের ফসল হলো আজকের এই সংসদ। এই মানুষগুলো কারা? তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ কেউ মন্ত্রী, কেউ এমপি, কেউ সরকারি দল, কেউ বিরোধী দল হয়ে সংসদে বসেছি। তাদের স্বপ্ন কী ছিল? তারা জানতো তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে কেউ মন্ত্রী হবে না, এমপিও হবে না। তারা ছিল সাধারণ মানুষ, একেবারে খেটে খাওয়া জনগণ। তারা একটা স্বপ্ন দেখেছিল, একটা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন, একটা নতুন রাজনীতি নির্মাণের স্বপ্ন, একটা নতুন চিন্তার জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন। সর্বোপরি সবার জন্য যেই ভীষণ রকম বৈষম্য আমরা দেখেছি গত কয়েক বছর, সেখান থেকে মুক্ত হয়ে সবাইকে নিয়ে একসাথে একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন সেই সব মানুষের কাছে, আমি বিশ্বাস করি আমার সহকর্মী এই সংসদ সদস্যরা সবাই কৃতজ্ঞ।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, শহীদদের যে প্রত্যাশা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান, সেই প্রত্যাশা অলিক কোনও বিষয় ছিল? এখনও যদি আমরা দেয়ালে দেয়ালে তাকাই দেখবো, তারা তাদের স্বপ্নের কথা লিখে গেছে। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ কিংবা ‘দেশটা কারো বাপের না’ ‘তুমি কে আমি কে, বিকল্প বিকল্প’, ‘আসছে ফাগুন, আমরা হবো দ্বিগুণ’, ‘শোন মহাজন, আমরা অনেকজন’, ‘চেঞ্জ ভয়েস, নট ইকো’, ‘দিনে নাটক রাতে আটক’, ‘নাটক কম করো প্রিয়’, ‘হামাক ব্যাটাক মারল কেন’? প্রশ্ন লক্ষ্য জিজ্ঞাসা এই লড়াইটা কেবল একটা সরকার পরিবর্তনের লড়াই ছিল না। যেই কথাটি আমি বলেছি, একটা স্বপ্ন, একটা নতুন বাংলাদেশ সবাইকে নিয়ে সবার বাংলাদেশ গঠন করার একটা স্বপ্ন নিয়ে এই গণঅভুত্থান হয়েছিল। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী বা লৈঙ্গিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপর বা আদার করে দেওয়া হবে না।

নারীদের প্রতি বৈষম্য তুলে ধরে রুমিন ফারহানা সংসদে বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে বলি, এই আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন নারীরা। একঝাক নতুন প্রজন্মের তরুণ মুখ আমরা পেয়েছিলাম। সেই নারীরা এক বছর পার না হতেই হারিয়ে গেলেন কেন? সাত জন নারী সাংসদের এই সংসদে সেই প্রশ্নটা আমি আপনাদের কাছেই রেখে যাচ্ছি। মিছিলের সামনের সারিতে নারীর প্রয়োজন হয়। পুলিশের টিয়ারশেল লাঠি চার্জের সামনে নারী ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। অস্থির সময় নারীর সাহায্য ছাড়া পার হওয়া যায় না। আর সবকিছু যখন ঠিক হয়, তখন নারী হয় ট্রলের বস্তু, নারীর পোশাক, চেহারা, কথা, হাসি– সবকিছুই তখন হাসির মোহড়াতে পরিণত হয়। আমি আপনার মাধ্যমে আজকের সংসদে আরেকটি কথা বলে যাই। ৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ রচনার কোনও চিন্তা যদি কেউ করে থাকে, সেটা কখনও সম্ভব না। কোনদিন সম্ভব না।

Link copied!