ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

দ্রুতই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মাহদী আমিন

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০১:১২ পিএম

দ্রুতই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মাহদী আমিন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির সরকার।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী বলেন, প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কম খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের সিন্ডিকেট যেন না থাকে, সে জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টিতে দুই দেশের সরকারই ইতিবাচক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন।

শ্রমিক পাঠানো কবে শুরু হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনও নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মালয়েশিয়ার সব সেন্ডিং কান্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা এজেন্সি নির্বাচন করে।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।

মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন বিশেষভাবে তারা বিবেচনা করেন। সেই প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন যে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে আলাদা নিয়মে কোনও কিছু করার সুযোগ থাকবে কি না।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষায় কীভাবে ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে, বিশেষভাবে টিচার এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করা যায় কি না তা নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেই বার্তা আমরা পৌঁছে দিয়েছি।

মাহদী আমিন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যেটি উঠে এসেছে দুটো দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য কীভাবে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়। দুই দেশের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা আরও বেশি কোলাবোরেশন তৈরি করতে পারি।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের তিন দিনের এই স্বল্প সফরে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছি। একটি বার্তা খুব সুস্পষ্ট। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কত দ্রুত বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারবেন, সেটিই ছিল আমাদের মূল প্রাধান্য। মালয়েশিয়া সরকারও বলেছেন, আমরা যেভাবে তাদের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং যেভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছি ব্যয় কমানোর জন্য এর আগে তেমন কোনও সরকার এতটা চাপ দেয়নি।

মাহদী আমিন বলেন, জনশক্তি রফতানি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়। বিএনপি সবসময় জনশক্তি রফতানিকে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি প্রধান বাহন মনে করে। এটি আমাদের জন্য গৌরবের একটা বিষয়। প্রবাসী কল্যাণে যে মন্ত্রণালয়, সেটিও শুরু হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার সময়; যার কারণে প্রবাসীদের কল্যাণ আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, আমরা সামনে প্রবাসী কার্ড শুরু করবো। প্রবাসীদের পাশে আমরা থাকবো। নেতা তারেক রহমানের যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি, তার আলোকে আমাদের সর্বাঙ্গীন প্রচেষ্টা থাকবে, যত দ্রুত সম্ভব বহিঃবিশ্বে আমাদের জনশক্তি রফতানি আরও কীভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি আনস্কিল্ড, স্কিল্ড, সেমি স্কিল্ড প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিতে। পৃথিবীর যেই দেশে আমাদের প্রবাসীরা রয়েছেন কীভাবে তাদের জীবনমান আরও উন্নত করতে পারি, কীভাবে তারা আরও একটু স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, সেটির জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বরণ করে নিয়েছেন, তিনি যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে বলেছেন, সব সমস্যা আমরা একসঙ্গে কাজ করে সামনে সমাধানের উদ্যোগ নেবো, সেটি একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ।

গত ৮ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সফরের সময় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে মাহদী আমিন একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশে ফেরেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

Link copied!