ঢাকা সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব, ২৯৪ শিশুর মৃত্যু

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব, ২৯৪ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতার নজির রেখেছে বাংলাদেশের সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাবও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

শিশুদের নিয়ম মতো টিকা দেওয়ায় একসময় হামের সংক্রমণ বিরল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চলতি বছর এই রোগের সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতকাল পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একসময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি সদ্য সাবেক এই সরকারের ১৮ মাসের আমলে কার্যত ভেঙে পড়ে।

টিকা কেনার পদ্ধতি ও অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। যা থেকে দেখা দেয় টিকার সংকট। শেষ পর্যন্ত টিকার মজুত একেবারে তলানিতে নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতায় শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন এবং কয়েক দফায় কর্মবিরতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির আওতা কমে যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পুরো মেয়াদে কোনো বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেনি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে একটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা (এমআর-১ ও এমআর-২) টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী সম্পূরক ক্যাম্পেইন না হওয়াকে এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদানব্যবস্থা কীভাবে ভেঙে পড়ল, তা জানতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সংকটের শুরু

১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) বাস্তবায়ন করে আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ‘অপারেশন প্ল্যান’ (ওপি) নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হতো।এইচপিএনএসপির চতুর্থ ধাপ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ১ লাখ ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকার পঞ্চম ধাপের প্রস্তাব দিয়েছিল।

নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির ৬০টি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, এটাই হবে এই কর্মসূচির শেষ ধাপ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।কিন্তু তার বদলে ২০২৫ সালের মার্চে পুরো এইচপিএনএসপি বাতিল করে দেয় মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, টিকাদানসহ সব ‘ওপি’র অধীন থাকা সেবাকে সরাসরি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সমন্বয় বাড়ানো ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে চতুর্থ ধাপের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা এবং ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কয়েকটি ‘ব্রিজিং প্রকল্প’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।তবে এসব প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অনুমোদনই মেলেনি। পরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতেও কেটে যায় আরও কয়েক মাস। ফলে ক্রয়প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় নানা সেবা স্থবির হয়ে পড়ে।

শুধু টিকাই নয়, ওপি বাতিলের প্রভাবে দেশের ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ কমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য চালু ৪৫০টি এনসিডি কর্নারেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।তহবিল সংকটে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। কারণ, জ্বালানি ও চালকদের বেতন ওই কর্মসূচির অর্থ থেকেই দেওয়া হতো। জাতীয় পর্যায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি—কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন—এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হাম পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।

সরকার কিছু ওষুধের জন্য বরাদ্দ দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল। সার্বিকভাবে, এই সংকট এখনো কাটেনি।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বহু পরীক্ষিত এই কর্মসূচি খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরকার চাইলে সেগুলো সমাধান করতে পারত। কিন্তু পুরো কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত ২ মে তিনি  বলেন, ‘এক্সিট প্ল্যান কোথায় ছিল? সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতি হয়তো এতটা খারাপ হতো না।’এমআর নির্মূলবিষয়ক জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান ও এপিডেমিওলজিস্ট অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, অপারেশন প্ল্যান স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন ডিরেক্টর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের কার্যক্রমও থেমে যায়। এতে জনবলের বড় শূন্যতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সদর দপ্তরে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। এটাই ছিল সমস্যার বড় কারণগুলোর একটি।

তিনি আরও জানান, অপারেশন প্ল্যান না থাকায় এই প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। রাজস্ব বাজেটের অর্থ ব্যবহার করে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরো খাতটি অপারেশন প্ল্যাননির্ভর থাকায় নতুন ব্যবস্থায় যেতে আন্তবিভাগীয় ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু তাতে যে এত সময় লাগবে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আগে বুঝতে পারেনি।

লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত বিলম্ব হয়েছে।

টিকা সংগ্রহে বিলম্ব

অপারেশন প্ল্যান বাতিল এবং ব্রিজিং প্রকল্প অনুমোদনে অনেক সময় লেগে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের আগস্টে ৮৪২ কোটি টাকা টিকা কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর আগে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) টিকা কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, অর্ধেক টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। এ ছাড়া ইউনিসেফের সঙ্গে টিকার মূল্য নিয়ে দর-কষাকষি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপ্রিলের শুরুতে এক ইপিআই কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পদ্ধতিতেই একটি টিকাও হাতে পাইনি।’৩০ এপ্রিল প্রকাশিত সায়েন্স ডটঅর্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফ এ পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সায়েন্স ডটঅর্গকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই হতাশাজনক ছিল।’ প্রতিবেদন মতে, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে সে সময় বলেছিলেন, ‘দোহাই লাগে, এটা করবেন না!’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশের শর্তে বলেন, আগের ব্যবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অনুমোদনেই লাইন ডিরেক্টর ইউনিসেফকে টিকার অর্ডার দিতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন রাজস্ব বাজেটের অর্থে টিকা কিনতে গেলে অন্য জটিলতার পাশাপাশি দুটি মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগে, যা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়।’

অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার অভিজ্ঞতাও বর্তমান কর্মকর্তাদের কম। প্রতিটি টিকার জন্য আলাদা দরপত্র করতে হয়, ফলে সময় আরও বেড়ে যায়।তার ভাষ্য, সংকটের খবর আসতে শুরু করলে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউনিসেফের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার টিকা বাকিতে কেনে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। মার্চের মধ্যে সদর দপ্তরে হামসহ ছয় ধরনের টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। অথচ আগের কর্মসূচিতে অন্তত তিন মাসের অতিরিক্ত মজুত থাকত।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো—টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে টিকাদানের আওতা ঠিকভাবে বজায় রাখা যায়নি, যার ফলেই এই প্রাদুর্ভাব। দায় যদি কাউকে নিতে হয়, তাহলে তা অন্তর্বর্তী সরকারের। তারা যথাযথ টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি বা সমষ্টিগত সুরক্ষা তৈরি হয়নি।’

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, দীর্ঘদিনের টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি ছিল। বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতেই প্রতিযোগিতামূলক দামে টিকা কেনার চেষ্টা করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফের সতর্কবার্তা তিনি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর, যখন পুরো প্রক্রিয়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। ফলে তখন আর তা পর্যালোচনার পর্যাপ্ত সময় ছিল না।

হয়নি বিশেষ ক্যাম্পেইন

২৩ এপ্রিল প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ‘অপর্যাপ্ত হার্ড ইমিউনিটি’র মধ্যে এই প্রাদুর্ভাব ঘটছে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা পায়নি।বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রথম ডোজের কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। পরে ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের আওতাও বাড়ে। এ সময় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

২০২৩ সালে এমআর-১ টিকার মোট কভারেজ (ঠিক সময়ে ও বেঠিক সময়ে উভয় হিসাব মিলিয়ে) ছিল ১০০ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশে।তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকৃত হার আরও কম। কারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট চলাকালে মাঠপর্যায়ে অনেক টিকাদান না হয়েও কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘টিকাদানের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্যাভির সহযোগিতায় অর্ধেক টিকা দেশে এলেও হামবিরোধী বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের এপ্রিল। এতে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস সরকার জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও সেবা নিয়েই ব্যস্ত ছিল।’তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষ ক্যাম্পেইন জরুরি ভিত্তিতে চালানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের বড় ধরনের ব্যর্থতার কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—এমন জনমতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘এই শিশুদের মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদের সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

তিনি আরও জানান, টিকা সংগ্রহের জন্য ‘প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী’ সময়মতো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

Link copied!