ছবি: সংগৃহীত
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয় শিশু মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ৫৪ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ২৮৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর ৫৮টি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে দুই শিশু এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এদিকে, দেশে হামের সংক্রমণও বাড়ছে। গত এক দিনে আট বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২১২ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় ২৮২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০৪ জন ঢাকা বিভাগের। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্ত হয়েছে ৪৬ জন। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯১৪ জন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং সংক্রমিত এলাকায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়রা জেসমিন তৃষা বলেন, এখন শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই অবস্থায় হামে আক্রান্ত হওয়া মা ও গর্ভের শিশুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, শিশুর জ্বর আসার চার দিনের মধ্যে শরীরে র্যাশ বা লালচে দানা দেখা দিলে তাকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে। ততদিন পর্যন্ত শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।