ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

রুকু-সিজদার তাসবিহ কম-বেশি হলে, ভুল হলে নামাজ হবে?

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

রুকু-সিজদার তাসবিহ কম-বেশি হলে, ভুল হলে নামাজ হবে?

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা একটি অপরিহার্য কর্তব্য। তবে মানুষ হিসেবে নামাজের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ছোটখাটো ভুল হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় দেখা যায়, রুকুতে গিয়ে ভুলবশত সিজদার তাসবিহ কিংবা সিজদায় গিয়ে রুকুর তাসবিহ মুখে চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মুসল্লিদের মনে অনেক সময় নামাজ ভেঙে যাওয়া বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে সংশয় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

ইসলামিক বিধিবিধান অনুযায়ী, নামাজের রুকুতে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ এবং সিজদায় ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। কোনো ব্যক্তি যদি ভুলবশত রুকুতে সিজদার তাসবিহ অথবা সিজদায় রুকুর তাসবিহ পড়ে ফেলেন, তবে এতে নামাজ নষ্ট হয় না। এমনকি এ ধরনের ভুলের জন্য আলাদা করে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়াও ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকু ও সিজদায় আল্লাহর মহিমা ও প্রশংসামূলক বিভিন্ন দোয়া পাঠ করতেন; তাই যেকোনো পবিত্র তাসবিহ পাঠ করলে নামাজের মূল রুকন বা কাজ আদায় হয়ে যায়।

রুকু ও সিজদার তাসবিহ আদায়ের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা প্রতিটি মুমিনের জেনে রাখা প্রয়োজন। রুকুর তাসবিহ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’—যার অর্থ হচ্ছে ‘আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি’—এটি কমপক্ষে তিনবার পাঠ করা সুন্নত। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী পাঁচ বা সাতবার পাঠ করাকে উত্তম বলে গণ্য করা হয়। যদি কেউ ভুলবশত এটি এক বা দুইবার পাঠ করেন, তবুও তার নামাজ বাতিল হবে না।

একইভাবে সিজদার তাসবিহ হলো ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, যার অর্থ ‘আমি আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি’। এটিও কমপক্ষে তিনবার এবং সর্বোচ্চ বেজোড় সংখ্যায় পাঠ করা সুন্নত। এক্ষেত্রেও সংখ্যার হেরফের হলে বা ভুলবশত একবার পড়লেও নামাজ ভেঙে যায় না। তবে তাসবিহ আদায়ে ভুল হওয়া অনেক সময় নামাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগের অভাবকে নির্দেশ করে।

নামাজের মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই প্রতিটি তাসবিহ ও রুকন অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে এবং যথাযথ উচ্চারণে আদায় করা উচিত। অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে শান্ত মনে নামাজ সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়, কেননা আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু এবং তিনি বান্দার অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন।

Link copied!