ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

আল্লাহর নির্দেশে মানুষের কাছে যে আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন ইব্রাহিম (আ.)

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

আল্লাহর নির্দেশে মানুষের কাছে যে আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন ইব্রাহিম (আ.)

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ পবিত্র হজ। হজ শুধু একটি শারীরিক ইবাদত নয়, বরং বিশ্বাস, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের এক গভীর সফর। প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। নবী হজরত ইব্রাহিমের (আ.) আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক হাজার বছর ধরে সারা বিশ্বের লাখো মুসলিম এই পবিত্র সফরে অংশ নিচ্ছেন।

নবী ইব্রাহিমের (আ.) সেই ঐতিহাসিক আহ্বান
পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণের কাজ শেষ করার পর মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে নির্দেশ দেন মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা পৌঁছে দিতে। নবী ইব্রাহিম আ. তখন বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তার কণ্ঠস্বর কীভাবে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আল্লাহ তায়ালা অভয় দিয়ে জানান, ঘোষণা দেওয়া তার দায়িত্ব, সেটি মানুষের কানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর।

এরপর ইব্রাহিম (আ.) আরাফাত পাহাড়ে আরোহণ করে উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন, ওহে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ পালন করো। সেই প্রাচীন আহ্বানের প্রতিধ্বনি আজও মুমিনদের হৃদয়ে বাজে।

পবিত্র কোরআনের সূরা হজেও আল্লাহ এই নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন। আজ কয়েক হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও মুসলিম উম্মাহ আজও লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে যাচ্ছেন।

আধ্যাত্মিক শুদ্ধি ও গুনাহ মাফ
হজ শুধু একটি ভ্রমণ নয়, এর মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির এক মহাসুযোগ লাভ করেন মুসলিমরা। আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হজে গিয়ে কোনো প্রকার অশালীন কাজ বা পাপে লিপ্ত হলো না, সে হজের পর এমনভাবে নিষ্পাপ হয়ে ফিরল যেমনটা সে তার জন্মের দিন ছিল। অর্থাৎ হজের মাধ্যমে মানুষ অতীতের সমস্ত কলুষতা ধুয়ে-মুছে এক নতুন জীবনের সূচনা করতে পারে।

দেহ ও সম্পদের শ্রেষ্ঠ জিহাদ
ইসলামে শ্রেষ্ঠ জিহাদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রখ্যাত আলেম আবু শায়সা এর মতে, নামাজ ও রোজা হচ্ছে শরীরের জিহাদ, আবার দান-সদকা হলো সম্পদের জিহাদ। কিন্তু হজ হলো এমন এক ইবাদত যেখানে শরীর ও সম্পদ উভয়েরই সর্বোচ্চ ত্যাগ প্রয়োজন হয়। হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে নারীদের জন্য জিহাদ আছে কি না। জবাবে আল্লাহর রাসুল বলেছিলেন, তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো হজে মাবরুর বা কবুল হজ।

আরাফার ময়দানে রহমতের উৎসব
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে। এই দিনটি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ঢাকা থাকে। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, আরাফাতের দিনের চেয়ে বেশি অন্য কোনো দিন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন না। এই দিনে আল্লাহ ফেরেশতাদের সামনে হাজিদের নিয়ে গর্ব করেন এবং বান্দার সব আবদার কবুল করেন।

কবুল হজের সওয়াব জান্নাত
হজ যদি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তার মর্যাদা অতুলনীয়। ইসলামী পরিভাষায় একে হজে মাবরুর বলা হয়। এর অর্থ হলো এমন এক হজ যা পালনের সময় এবং পরবর্তী জীবনে মানুষ আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকে। মহানবী (সা.) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, কবুল হজের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।

Link copied!